রোনালদোকে নিয়ে সমালোচনা আরও বাড়ল

অনলাইন ডেস্কঃ
১৮ জুন, ২০২৬ ১০:১৪ এএম
শেয়ার করুন:
রোনালদোকে নিয়ে সমালোচনা আরও বাড়ল

চলতি বিশ্বকাপে যেখানে কিলিয়ান এমবাপে, এরলিং হালান্ড ও লিওনেল মেসির মতো তারকারা দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বিশ্বমঞ্চ মাতিয়ে রাখছেন, সেখানে নিজের প্রথম ম্যাচেই নিষ্প্রভ রইলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো [১]। পর্তুগালের এই মহাতারকার অনুজ্জ্বল পারফরম্যান্সের দিনে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট হারিয়েছে দল [১]। ম্যাচের পর রোনালদোকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় আরও তীব্র হয়েছে [১]।

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পুরো ম্যাচে রোনালদোর পায়ে বলের স্পর্শ ছিল মাত্র ২৫ বার, যা পুরো ৯০ মিনিট খেলা পর্তুগিজ ফুটবলারদের মধ্যে সবচেয়ে কম [১]। এই ম্যাচের পর বড় টুর্নামেন্টে টানা ১০ ম্যাচে গোলহীন রইলেন তিনি [১]। সমালোচকদের মতে, রোনালদোর মাঠে থাকাটা বর্তমানে দলের সতীর্থদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে [১]।

অথচ এবারের আসরের শুরুতেই অন্য পরাশক্তিদের তারকারা স্বরূপে হাজির হয়েছেন। সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে [১]। নিজের অভিষেক বিশ্বকাপেই ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নরওয়েকে জয় এনে দিয়েছেন এরলিং হালান্ড [১]। অন্যদিকে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার নতুন রেকর্ড গড়ে বাকিদের চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে গেছেন লিওনেল মেসি [১]।

কঙ্গোর বিপক্ষে রোনালদোর সামনে সুযোগ ছিল বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি গড়ার [১]। কিন্তু ৪১ বছর বয়সী এই তারকা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি [১]। উল্টো ম্যাচের ৮৩তম মিনিটে পর্তুগিজ কোচ রবের্তো মার্তিনেজ যখন ভিটিনহাকে তুলে নিয়ে গনসালো রামোসকে মাঠে নামান, তখন বিবিসি-র ফুটবল বিশ্লেষক ক্রিস সাটন কোচের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “রোনালদোকে তুলে নিতে মার্তিনেজ ভয় পাচ্ছেন, যা অত্যন্ত বিব্রতকর। আজ কোনোভাবেই ছন্দে ছিলেন না রোনালদো [১]।”

ম্যাচের আগে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ওয়েইন রুনি আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, অন্য তারকাদের দারুণ সূচনা দেখে রোনালদো হয়তো মাঠে ইতিবাচকভাবে জ্বলে উঠবেন [১]। রুনি বলেছিলেন, “বছরের পর বছর ধরে রোনালদো ও মেসি একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লড়াই করেছেন। তিনি এখনও প্রমাণ করতে চান যে তিনিই সেরা [১]।”

কিন্তু মাঠের বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে পেদ্রো নেতোর ক্রস থেকে হেড করে পর্তুগালকে এগিয়ে নেন পিএসজির জোয়াও নেভেস [১]। কিন্তু বিরতির ঠিক আগে নিউক্যাসলের ইয়োয়ানে উইসা গোল করে কঙ্গোকে সমতায় ফেরান [১]। পুরো ম্যাচে ৭৫ শতাংশ বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখলেও পর্তুগাল মাত্র সাতটি শট নিতে পেরেছিল, যার মধ্যে লক্ষ্য বরাবর শট ছিল কেবল একটিই—যা থেকে গোলটি এসেছিল [১]।

আল-নাসরের হয়ে খেলা রোনালদো দ্বিতীয়ার্ধে দুটি সহজ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন [১]। এ নিয়ে সাবেক ফরাসি তারকা গায়েল ক্লিশি ও অলিভিয়ে জিরুদ মনে করেন, ম্যাচের কোনো কোনো মুহূর্তে ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও নিজেই শট নিতে পারতেন, কিন্তু রোনালদোর তারকা মর্যাদার কারণে তিনি নিজে শট না নিয়ে তাকে পাস দেওয়ার চেষ্টা করেছেন [১]।

ফক্স স্পোর্টসে থিয়েরি অঁরি মন্তব্য করেন, অতিরিক্ত গোল করার তাড়নায় রোনালদো সতীর্থ ব্রুনো ফার্নান্দেসের পাসের পথ বন্ধ করে দিচ্ছিলেন [১]। তিনি বলেন, “দলের গোল করাটাই সবচেয়ে বড় কথা, কেবল ব্যক্তিগত গোল পাওয়া নয় [১]।”

ক্লিশি আরও যোগ করেন, “মাঠে যখন অনেক বড় কোনো তারকা থাকেন, তখন অন্য খেলোয়াড়েরা নিজ থেকে দায়িত্ব নিতে ভয় পান। এটি রোনালদোর ভুল নয়, তবে কোচের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় প্রভাব ফেলে [১]।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।