পরীমণির বাসায় টানা ১ মাস রাত কাটিয়েছিলেন সাকলায়েন

অনলাইন ডেস্কঃ
১৮ জুন, ২০২৬ ১০:৩৩ এএম
শেয়ার করুন:
পরীমণির বাসায় টানা ১ মাস রাত কাটিয়েছিলেন সাকলায়েন

চিত্রনায়িকা পরীমণির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক ও রাত্রিযাপনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ও বর্তমান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের সারসংক্ষেপে ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্বাক্ষর করেছেন। ফাইলটি এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানো হবে এবং রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত আদেশের পর আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে যা উঠে এসেছে
পুলিশ অধিদপ্তরের এলআইসি শাখা থেকে সংগৃহীত সাকলায়েনের ফোন কল রেকর্ড (সিডিআর), ফেসবুক মেসেঞ্জার ও মোবাইল মেসেজ বিশ্লেষণ করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৪ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত সাকলায়েন নিয়মিত পরীমণির বাসায় যাতায়াত করতেন এবং সেখানে রাত্রিযাপন করতেন। তাদের মধ্যকার বার্তা আদান-প্রদান সাধারণ কোনো পেশাগত বা পরিচিতিমূলক সম্পর্কের ছিল না, বরং তা ছিল গভীর অনৈতিক প্রেমের সম্পর্ক।

এছাড়া, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২১ সালের ১ আগস্ট সকালে (সাকলায়েনের স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে) পরীমণি তার রাজারবাগের সরকারি বাসভবনে যান এবং সেখানে প্রায় ১৭ ঘণ্টা অবস্থান করেন। পরদিন রাত দেড়টার দিকে তিনি সাকলায়েনের বাসা থেকে বের হন।

ঘটনার সূত্রপাত
২০২১ সালের ১৪ জুন ঢাকা বোট ক্লাবে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলা করেছিলেন পরীমণি। সেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন গোলাম সাকলায়েন। মামলার তদন্ত করতে গিয়েই পরীমণির সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে এবং পরবর্তীতে তা ঘনিষ্ঠ অনৈতিক সম্পর্কে রূপ নেয়। সাকলায়েন বিবাহিত এবং এক সন্তানের পিতা হওয়া সত্ত্বেও এই ধরনের সম্পর্কে জড়ানো ও নিজের সরকারি বাসভবনে পরীমণির সাথে সময় কাটানো পুলিশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া
অনৈতিক সম্পর্কের এই অভিযোগ ওঠার পর প্রাথমিকভাবে সাকলায়েনকে ডিবি থেকে বদলি করা হয়েছিল এবং একটি তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পর, ২০২৪ সালের ১৩ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ সাকলায়েনকে চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর প্রদানের’ বিষয়ে সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়ের (পিএসসি) মতামত চেয়ে চিঠি পাঠায়। 

সম্প্রতি পিএসসি থেকে এ বিষয়ে ইতিবাচক মতামত আসার পর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। 

এই বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান তালুকদার মুঠোফোনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি বেশ আলোচিত হলেও এ মুহূর্তের সুনির্দিষ্ট আপডেট তার কাছে তাৎক্ষণিকভাবে নেই।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।