সদরপুরে মমিন হোটেলে ‘নকল ডিম’ বিক্রির অভিযোগ, তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি

নুরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
১৬ জুন, ২০২৬ ৮:২৪ পিএম
শেয়ার করুন:
সদরপুরে মমিন হোটেলে ‘নকল ডিম’ বিক্রির অভিযোগ, তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার একটি স্বনামধন্য খাবার হোটেল ‘মমিন হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’-এ নকল বা কৃত্রিম ডিম বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে হোটেলে নাস্তা করতে আসা কয়েকজন গ্রাহক ডিমের অস্বাভাবিক গঠন ও গন্ধ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলে বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কয়েকজন গ্রাহক ডিম দিয়ে নাস্তা করার সময় ডিমের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করেন। তাদের অভিযোগ, ডিমের টেক্সচার ও গন্ধ অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় তারা বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পরে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি ডিমগুলো পরীক্ষা করে এগুলো কৃত্রিম বা নকল হতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে হোটেলের কর্মচারীদের কাছে জানতে চাইলে তারা এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ডিমের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে হোটেল কর্তৃপক্ষও সন্তোষজনক তথ্য দিতে পারেননি বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে এ বিষয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বা ভেজাল খাদ্য উৎপাদন, মজুত, সরবরাহ কিংবা বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। একইভাবে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী খাদ্যে ভেজাল বা ক্ষতিকর উপাদান মিশ্রণের বিরুদ্ধে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যপণ্যের মান নিয়ে কোনো সন্দেহ দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ অথবা জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে অবহিত করা উচিত। পরীক্ষাগারে পরীক্ষা ছাড়া কোনো খাদ্যপণ্যকে নিশ্চিতভাবে নকল বা কৃত্রিম বলা সম্ভব নয় বলেও তারা মত দেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা প্রশাসন, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে এমন প্রতারণার সাহস না পায়।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে এলাকাবাসী।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।