সালথায় ১ মন পেঁয়াজের দামে মিলছে ১ কেজি গরুর মাংস, হতাশ চাষিরা
পাট ও পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য খ্যাত ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হলেও দাম পড়ে যাওয়ায় চরম হতাশায় ভুগছেন কৃষকরা। বর্তমানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, ১ কেজি গরুর মাংস কিনতে একজন কৃষককে বিক্রি করতে হচ্ছে প্রায় ১ মন (৪০ কেজি) পেঁয়াজ।
উপজেলার সালথা সদর বাজার, ঠেনঠেনিয়া, বালিয়া, মাঝারদিয়া, নকুলহাটি, ফুলবাড়িয়া ও সোনাপুরসহ বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, চলতি সপ্তাহে প্রতি মন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ১১০০ টাকায়। অন্যদিকে, বাজারে গরুর মাংসের কেজি প্রতি দাম ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা। ফলে ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে অনেক কৃষক ১ মন পেঁয়াজ বিক্রি করে মাত্র ১ কেজি গরুর মাংস কিনতে পারছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে মুড়িকাটা ২০০ হেক্টর এবং বীজ উৎপাদন হচ্ছে ৫০ হেক্টরে। ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় হালি পেঁয়াজ উত্তোলন শুরু হয়েছে এবং ফলনও হয়েছে সন্তোষজনক।
তবে কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একাধিক চাষি জানান, সার, বীজ ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে প্রতি মন পেঁয়াজ উৎপাদনে তাদের খরচ পড়েছে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা। অথচ বাজারে তারা পাচ্ছেন তার চেয়েও কম দাম। এছাড়া ডিলারদের সিন্ডিকেটের কারণে কৃত্রিম সার সংকট তৈরি হওয়ায় বেশি দামে সার কিনতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
চাষিরা জানান, মৌসুমের শুরুতে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রেখে দাম ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে রাখার দাবি ছিল তাদের। পাশাপাশি বীজ ও সারের দাম কমানো, কৃষি ঋণ সহজ শর্তে প্রদান এবং পেঁয়াজ চাষে প্রণোদনা বৃদ্ধির দাবিও জানান তারা।
তাদের আরও অভিযোগ, মৌসুমের মাঝামাঝি সময় থেকে পেঁয়াজ চলে যায় মজুতদারদের হাতে। তখন দাম বাড়লেও কৃষকরা তার সুফল পান না। পর্যাপ্ত সংরক্ষণাগার না থাকায় অনেক পেঁয়াজ অল্প সময়েই পচে যায়। এ কারণে দ্রুত পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।
স্থানীয় পেঁয়াজ ব্যবসায়ী এরশাদ মোল্যা বলেন, দেশের প্রায় সব জেলায় একসঙ্গে পেঁয়াজ উত্তোলন শুরু হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। ঈদকে সামনে রেখে ঢাকার অনেক আড়ত বন্ধ থাকায় এর প্রভাব পড়েছে দামে। এছাড়া অপরিপক্ক ও ক্ষতিগ্রস্ত পেঁয়াজের দাম কম থাকে। তবে কিছুদিন পর দাম বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুদর্শন সিকদার বলেন, সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এ মৌসুমে ৮০০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি উৎপাদন হবে বলে আশা করছি। তবে দামের বিষয়টি নিয়ে কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। আমরা আশা করছি, শিগগিরই কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন। সংরক্ষণাগার নির্মাণের বিষয়টিও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
What's Your Reaction?
জাকির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টারঃ