দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অবিসংবাদিত নেতা হয়ে উঠেছিলেন- শামা ওবায়েদ
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফরিদপুর ২ আসনে বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শুধু তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, উনি বিএনপি'র চেয়ারপার্সন ছিলেন না, উনি এই উপমহাদেশের গণতন্ত্রগামী মানুষের জন্য একজন অবিসংবাদিত নেতা হিসাবে পরিণত হয়েছিলেন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের কিত্তা গ্রামের একটি মাদ্রাসা মাঠে আটঘর ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এদেশে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে আন্দোলন, অর্থনীতির মুক্তির জন্য যে আন্দোলন, মানুষের কথা বলার অধিকারের জন্য যে আন্দোলন প্রত্যেকটি আন্দোলনে আপোষহীন ভূমিকা পালন করে বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যেকের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।
উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আজকে এখানে যারা উপস্থিত আছেন অনেকেই গত ১৭ বছর তারা নির্যাতিত ছিলেন। অনেকেই কথা বলতে পারেন নাই। মিথ্যা মামলায় নির্যাতিত ছিলেন। ঘরে থাকতে পারেন নাই। এই ১৭ বছর বাংলাদেশের মাটিতে ঠিকমতো নির্বাচন হয় নাই। সেই গণতন্ত্রের ও ভোটাধিকারের জন্য জন্য মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংগ্রাম করে গেছেন সারা জীবন । সেই গণতন্ত্র ভোটাধিকার কিন্তু আমরা পাই নাই। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশের মাটিতে যে নির্বাচন হবে সেই নির্বাচনটি হবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। আমার বাবার মৃত্যুর পরে এই সালথা উপজেলার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আমি এতটুকু কথা দিতে পারি আগামী নির্বাচনে যদি সফল হই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোট দিতে পারি, ধানের শীষকে বিজয় লাভ করাতে পারি তাহলে আমরা সবাই মিলে সালথা উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলা হিসাবে গড়ে তুলতে পারি।
মডেল উপজেলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সালথা উপজেলায় এখনে এমন অনেক গ্রাম আছে যেখানে ভালো রাস্তা নাই গাড়ি ঘোড়া চলতে পারে না ভ্যান গাড়ি ও ঠিকমত চলাচল করতে পারে না আমাদের মা বোনদের কষ্ট হয় ছোট ছোট ভাইবোনেরা যারা মাদ্রাসায স্কুলে পড়াশোনা করে তাদেরও চলাচলে কষ্ট হয়। প্রত্যেকটা এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ করতে হবে রাস্তাঘাট করতে হবে ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণ করতে হবে। সালথায় ভালো একটি হাসপাতাল নাই। ফলে উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার জন্য ফরিদপুরে অথবা ঢাকায় যেতে হয়। আমরা চাই সালথা উপজেলায় একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল হোক যেখানে আমাদের মুরব্বিরা আমাদের ভাইয়েরা বোনরা স্বল্প মূল্যে চিকিৎসা নিতে পারবে। এখানে একটি ভালো ইউনিভার্সিটি হতে হবে। নগরকান্দা এবং সালথা উপজেলা প্রতিটি ঘরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে হবে। সালথা অনেক মাদ্রাসা আছে অনেক মহিলা মাদ্রাসা আছে যেখানে আমাদের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করছে। সেগুলোকে আরো উন্নত করতে হবে যাতে আমাদের ছেলেমেয়েদের কষ্ট না হয় আরও ভালো ভাবে তালিম নিতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এমন একটি দল যে দল সকল ধর্ম সকল দল সকল মতকে ধারণ করতে পারে, প্রটেকশন দিতে পারে। সব ষড়যন্ত্র থেকে সংঘর্ষ থেকে বালা মিসিবত থেকে জায়গা দিতে পারে। আমি সংসদে যেতে পারলে সালথা উপজেলার জন্য অনেক কিছু করতে পারবো। উন্নয়ন করতে পারবো। কর্মসংস্থান করতে পারব। যাতে চাকরির জন্য আমাদের এই এলাকার মেয়েদের দূরে কোথাও যেতে না হয়।
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি শাহিন মাতুব্বর, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আজাদ খন্দকার, যুবদল নেতা হাসান আশরাফ, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির বাবুল তালুকদার, সাইফুজ্জামান মুকুল, শওকত শরিফসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
দোয়া মাহফিলে আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয় এবং তার রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া চাওয়া হয়।
What's Your Reaction?
জাকির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টারঃ