যমুনার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়িসহ শতশত বিঘা ফসলি জমি

অনলাইন ডেস্কঃ
১৮ জুন, ২০২৬ ১১:৪৭ এএম
শেয়ার করুন:
যমুনার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়িসহ শতশত বিঘা ফসলি জমি

পাবনার বেড়া উপজেলায় যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের দিন কাটছে চরম আতঙ্কে। ভাঙনের মুখে পড়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, সাবমেরিন ক্যাবল, জামে মসজিদ ও বহু বসতবাড়ি। ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে শত শত বিঘা ফসলি জমি। নদীভাঙন রোধে অবিলম্বে কার্যকর স্থায়ী উদ্যোগ ও দ্রুত জিওব্যাগ ফেলার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেড়া উপজেলার পুরানভারেঙ্গা ইউনিয়নের কল্যাণপুর চর, চর সিংহাসন বক্তারপুর এবং নতুনভারেঙ্গা ইউনিয়নের নেওলাইপাড়া এলাকায় সম্প্রতি তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র (সাব-স্টেশন), মসজিদ ও শত শত বিঘা আবাদি জমি চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীভাঙন সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে কল্যাণপুর চরে। সেখানে ভাঙনকবলিত স্থানটি স্থানীয় জামে মসজিদ থেকে প্রায় ২০০ ফুট এবং বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে অবস্থান করছে। তবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে নদীপাড়ের মাত্র ৫০ ফুট দূর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সাবমেরিন ক্যাবলটি। এটি নদীগর্ভে চলে গেলে চরের হাজার হাজার মানুষ দীর্ঘ মেয়াদে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত এক মাসে কেবল কল্যাণপুর চর এলাকাতেই প্রায় ২০০ বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে অনেক প্রান্তিক কৃষক তাদের একমাত্র আয়ের উৎস ও আবাদি জমি হারিয়ে সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

ভুক্তভোগী কৃষক মো. তাইজল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, "গত এক মাসে যমুনার ভাঙনে আমার চার বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। এর আগেও আমার বেশ কিছু জমি নদী কেড়ে নিয়েছে। এখন আর চাষ করার মতো কোনো জমি আমার অবশিষ্ট নেই। পরিবার নিয়ে কীভাবে বাঁচব, তা ভেবে কুল পাচ্ছি না।" তার মতো শুকুর আলী, কামাল হোসেন, ইসমাইল হোসেন ও হযরত আলীসহ অসংখ্য কৃষকের আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অনেকেই বছরের পর বছর ধরে চলা এই নদীভাঙনের শিকার হয়ে ভূমিহীনে পরিণত হয়েছেন।

নেওলাইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়ে বলেন, "ভাঙনের আতঙ্কে রাতে আমাদের চোখে ঘুম নেই। সবসময় মনে হয়, এই বুঝি বাড়িঘর ভেঙে নদীতে চলে গেল। আমাদের জানমাল ও বসতভিটা রক্ষায় সরকারের কাছে দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আকুল আবেদন জানাচ্ছি।"

পুরানভারেঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য রেজাউল করিম বলেন, "গত এক মাসে কল্যাণপুর চরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ভাঙন এলাকা থেকে মাত্র ৫০ ফুট দূরে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের ক্যাবল ও জামে মসজিদ রয়েছে। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধ করা না গেলে যেকোনো সময় এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।"

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়া শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, যমুনা নদীর ভাঙন পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থান বিবেচনায় কল্যাণপুর চরসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ভাঙন ঠেকাতে ইতোমধ্যে দুটি প্যাকেজের আওতায় প্রায় ১২ হাজার জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত প্যাকেজ গ্রহণ এবং আরও জিওব্যাগ ফেলার প্রস্তুতি রয়েছে। এ ছাড়া ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।