বাবা ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ’ বলা জামায়াতের সেই এমপির বাবা এখনো বেঁচে আছেন

অনলাইন ডেস্কঃ
১৮ জুন, ২০২৬ ১১:২২ এএম
শেয়ার করুন:
বাবা ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ’ বলা জামায়াতের সেই এমপির বাবা এখনো বেঁচে আছেন

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তান’ দাবি করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল মুনতাকিম। অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিজেকে শহীদের সন্তান দাবি করলেও তার বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী এবং মা মোসলমান বেগম দুজনেই বর্তমানে জীবিত আছেন। তারা সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ গ্রামে ছেলের সঙ্গেই বসবাস করছেন। 

এর আগে গত রোববার (১৪ জুন) সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় এমপি আব্দুল মুনতাকিম তার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা থাকার দাবি করেন। মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত একটি বিলের ওপর আলোচনাকালে তিনি দাবি করেন, তার বাবা ও দাদা মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন।

সংসদ অধিবেশনে তিনি বলেন, "আমার আব্বারা ৭ ভাই, যার মধ্যে ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, যার মধ্যে ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন।" 

তবে তার নির্বাচনি হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন এমপি মুনতাকিম। অর্থাৎ, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রায় ১০ বছর পর তার জন্ম। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় হলফনামা অনুযায়ী তার বয়স ছিল ৪৪ বছর ১১ মাস ২০ দিন। ১৯৮১ সালে জন্ম নেওয়া একজন ব্যক্তির পক্ষে ১৯৭১ সালে শহীদ হওয়া বাবার সন্তান দাবি করার বিষয়টি সামনে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

এই বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে নিজের বক্তব্যকে ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম। তিনি বলেন, "সংসদ অধিবেশন চলাকালীন সময়ে আমি বেশ অসুস্থ ছিলাম এবং আমার মাথায় প্রচন্ড ব্যথা ছিল। যার ফলে সংসদে আমি আসলে কী বলেছি, তা তখন ঠিকমতো বুঝতে পারিনি। আসলে আমার বাবা এখনো বেঁচে আছেন। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন আমার দাদা ও চাচা। সংসদে অসাবধানতাবশত ভুল কিছু বলে থাকলে আমি দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।"

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।