হাসিনার গণহত্যার বর্ণনা সংসদে তুলে ধরবেন রাষ্ট্রপতি

অনলাইন ডেস্কঃ
Feb 26, 2026 - 11:38
হাসিনার গণহত্যার বর্ণনা সংসদে তুলে ধরবেন রাষ্ট্রপতি

আগামী ১২ মার্চ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তবে এবারের ভাষণটি হতে যাচ্ছে নজিরবিহীন। রাষ্ট্রপতির এই ভাষণে শেখ হাসিনার দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের দুর্নীতি, দুঃশাসন এবং ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির ভাষণে এবার বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের অপশাসন ও জুলাই বিপ্লবের প্রেক্ষাপট। একই সঙ্গে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের মূল অঙ্গীকারগুলোও এই ভাষণে প্রতিফলিত হবে।

উল্লেখ্য, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে এবং প্রতি বছরের শুরুতে রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দিয়ে থাকেন। যদিও রাষ্ট্রপতি নিজে এই ভাষণ তৈরি করেন না; সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের তথ্য সমন্বয় করে এই খসড়া প্রস্তুত করে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতি সেই নির্ধারিত ভাষণটিই পাঠ করেন। 

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেই এই ভাষণের প্রাথমিক খসড়া তৈরির কাজ শুরু হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রায় ১৫০ পৃষ্ঠার এই দীর্ঘ ভাষণে বিগত দিনের ‘আয়নাঘর’ তথা গুম-খুন, বিরোধী দলের ওপর নির্যাতন এবং দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে যে প্রহসন হয়েছিল, তার একটি প্রামাণ্য চিত্র তুলে ধরা হবে।

ভাষণের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও দেশত্যাগের ঘটনাপ্রবাহ। সেই সময়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের পরিসংখ্যানও রাষ্ট্রপতির ভাষণে স্থান পাচ্ছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, আগামী ১২ মার্চ সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত, তবে ভাষণের বিষয়বস্তু নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামানও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গত ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যে সরকারের বন্দনা করেছিলেন, এবার সেই একই রাষ্ট্রপতির মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও অপশাসনের বর্ণনা শোনা হবে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। 

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সংসদে একটি ধন্যবাদ প্রস্তাব আনা হবে, যার ওপর দীর্ঘ আলোচনা শেষে সংসদ সদস্যরা সেটি গ্রহণ করবেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow