এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এক বিস্ফোরক ও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, ইসরায়েল ছাড়া আসলে আমেরিকার কোনো অস্তিত্বই থাকত না এবং নিজেদের অস্তিত্বের জন্য মার্কিনরা ইসরায়েলের কাছে ঋণী।
সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রদূত হাকাবির এই মন্তব্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। ফলে এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
**নেপথ্য বক্তব্য**
ইসরায়েলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেন, “ইহুদি ভিত্তি ছাড়া কোনো আমেরিকা থাকত না। আমেরিকানরা আমাদের অস্তিত্বের জন্য এই ভূমিতে (ইসরায়েল) যা ঘটেছিল, তার কাছে ঋণী।”
হাকাবির এই দাবি মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সরাসরি বিরোধিতা করে। কারণ ট্রাম্প কিছুদিন আগেই ইসরায়েলের টিকে থাকার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব নিজের বলে দাবি করেছিলেন। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প ইসরায়েলি নেতৃত্বের সমালোচনা করে বলেছিলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া কোনো ইসরায়েল থাকত না। আমি ছাড়া কোনো ইসরায়েল থাকত না, কারণ অন্য কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট আমি যা করেছি তা করতে রাজি হতেন না।”
**সংবেদনশীল সময়ে বিতর্ক**
রাষ্ট্রদূত হাকাবির এই মন্তব্য এমন এক সংবেদনশীল সময়ে এলো যখন হোয়াইট হাউস তেহরানের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত করার দোরগোড়ায় রয়েছে। জেনেভায় নির্ধারিত একটি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগে ইরানের সঙ্গে এই আলোচনা এগিয়ে নিতে ট্রাম্প সচেষ্ট ভূমিকা রাখছেন।
এই শান্তি আলোচনার মধ্যেই ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর কিছু সিদ্ধান্তকে ‘পাগলামি’ বলে অভিহিত করেছেন। বিশেষ করে লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক হামলার তীব্র সমালোচনা করে ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে, তেল আবিবের এমন পদক্ষেপ ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনাকে নস্যাৎ করতে পারে। নেতানিয়াহুর যুদ্ধনীতির সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, “কাউকে খোঁজার জন্য প্রতিবার একটি আস্ত ভবন গুঁড়িয়ে দিতে হবে না।”
**হাকাবির আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন**
২০২৫ সালের এপ্রিলে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া মাইক হাকাবির আনুগত্য নিয়ে এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আরকানসাসের সাবেক এই গভর্নর এবং ব্যাপটিস্ট মন্ত্রী মার্কিন স্বার্থের চেয়ে ইসরায়েলি স্বার্থকে ক্রমাগত অগ্রাধিকার দিচ্ছেন বলে সমালোচকরা অভিযোগ করছেন।
সম্প্রতি প্রখ্যাত সাংবাদিক টাকার কার্লসনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারেও হাকাবিকে কট্টর ডানপন্থী ইসরায়েলি অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করতে দেখা গেছে। তিনি ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরকে ‘জুডিয়া এবং সামারিয়া’ হিসেবে উল্লেখ করে ইসরায়েলের দখলদারি নীতিকে সরাসরি সমর্থন জানান।
এমনকি ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে হাকাবি নিজের দেশের সশস্ত্র বাহিনীকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন, ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের সময় মার্কিন সামরিক বাহিনী যতটা মানবিক ছিল, বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তার চেয়ে অনেক বেশি মানবিক।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষক জোনাথন পোলার্ডের সঙ্গে সম্প্রতি একটি বৈঠক করেন হাকাবি। দেশদ্রোহী হিসেবে পরিচিত সেই পোলার্ডের সঙ্গে বৈঠকের পক্ষেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে অনড় অবস্থান নিয়েছেন এই মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
পিরোজপুর | ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
পিরোজপুর | ২৬ এপ্রিল, ২০২৫
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
ফরিদপুর | ১৭ জুন, ২০২৬
বরিশাল | ১৭ জুন, ২০২৬
জাতীয় | ১৭ জুন, ২০২৬
বিনোদন | ১৭ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক | ১৭ জুন, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।