পুশইন বন্ধে সরকারের দৃশ‍্যমান কোনো উদ্যোগ নেই: এবি পার্টি

অনলাইন ডেস্কঃ
১৭ জুন, ২০২৬ ৩:২৩ পিএম
শেয়ার করুন:
পুশইন বন্ধে সরকারের দৃশ‍্যমান কোনো উদ্যোগ নেই: এবি পার্টি

সীমান্তে পুশইন (জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ) বন্ধ করতে বর্তমান সরকারের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই বলে দাবি করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। ভারতের এই কার্যক্রমকে কূটনৈতিক সৌজন্য, আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে দলটি। 

বুধবার (১৭ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘সীমান্ত হত্যা, পুশইন ও কাঁটাতারের রাজনীতি’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির শীর্ষ নেতারা এসব কথা বলেন। 

সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “ভারত সরকার আশ্বস্ত করেছিল যে বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার আসলে তারা সহযোগিতা করবে। কিন্তু তাদের সহযোগিতার নামে যে নৃশংসতা ও বৈরী আচরণ, তা আমাদের পূর্বের মতোই দেখতে হচ্ছে।” বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কার্যকর কোনো কূটনৈতিক পদক্ষেপ বা উদ্যোগ না থাকায় তিনি গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ভারতের কাঁটাতারের রাজনীতি, সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের মতো বৈরী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে জোরালোভাবে তথ্য তুলে ধরার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “কোনো দেশের রাষ্ট্রীয় বাহিনী তাদের নিজেদের দেশের নাগরিককে অন্য দেশের মানুষ দাবি করে জোরপূর্বক সীমান্তের শূন্য রেখায় দিনের পর দিন খোলা আকাশের নিচে বসিয়ে রাখছে, নির্যাতন করছে এবং জোর করে পাশের দেশে ঠেলে দিচ্ছে—এমন অমানবিক ও নিষ্ঠুর আচরণ পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায় না।” তিনি এর সাথে মিয়ানমারের জান্তা সরকার কর্তৃক রোহিঙ্গা নিপীড়নের তুলনা করে বলেন, বছরের পর বছর ধরে লাখ লাখ শরণার্থীর করুণ জীবন বিশ্ববাসী দেখলেও তাদের স্থায়ী পুনর্বাসনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের সাথে ভারতের যদি একটি সুস্থ ও টেকসই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হয়, তবে ভারতকে অবিলম্বে সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের নীতি বন্ধ করতে হবে। এ সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক সম্মান, মর্যাদা ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে। 

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ বদলে গেছে। আওয়ামী লীগ আমলের সেই নতজানু পররাষ্ট্রনীতি আর চলতে দেওয়া যায় না। দেশের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বর্তমানের নতুন বাস্তবতায় একটি স্বাধীন ও কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করা সময়ের দাবি।”

সংবাদ সম্মেলন থেকে এবি পার্টির পক্ষ থেকে বেশ কিছু দাবি ও আহ্বান জানানো হয়:
১. গত পাঁচ দশকে সীমান্তে নিহত হাজার হাজার বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
২. সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) আরও আধুনিকায়ন করতে হবে।
৩. সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক ও নাগরিক প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর মূল আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দেশের সকল রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ও জাতীয় স্বার্থবান্ধব পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করতে হবে।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আলতাফ হোসাইন, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদ প্রমুখ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।