মাদারীপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা
মাদারীপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারুফ সরদার (১৪) নামে এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভ?
মাদারীপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারুফ সরদার (১৪) নামে এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে।
রোববার সকালে রাজধানী ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে শনিবার সকালে ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের খাতিয়াল এলাকায় মারুফ সরদারসহ চারজনকে পিটিয়ে আহত করা হয়। নিহত মারুফ সরদার ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের খাতিয়াল এলাকার নুর ইসলামের ছেলে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা নুর ইসলাম সরদার, মা মানিনুর বেগমসহ একই বাড়ির হোসনেয়ারা বেগম ও পাপিয়া বেগমকে পিটিয়ে গুরতর আহত করা হয়। আহতরা মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে খাতিয়াল এলাকার নুর ইসলাম সরদারের সঙ্গে একই এলাকার মোফাজ্জেল সরদারের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। শনিবার সকালে নুর ইসলামের বাড়ির পাশে একটি বিরোধপূর্ণ জমিতে উভয়পক্ষ পরিমাপের আয়োজন করেন। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও তর্ক-বিতর্ক সৃষ্টি হয়। একপর্যায় মোফাজ্জেল সরদারের নেতৃত্বে তার লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষ নুর ইসলামের ওপর হামলা চালায়। বাঁধা দিতে গেলে নুর ইসলামের ছেলে, স্ত্রীসহ পাঁচজনকে পিটিয়ে গুরতর জখম করা হয়। পরে গুরতর অবস্থায় নুর ইসলাম ও তার ছেলে মারুফ সরদারসহ পাঁচজনকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ সময় আশঙ্কাজনক অবস্থায় মারুফ সরদারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। মারুফকে শনিবার বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করেন তাঁর স্বজনরা। পরবর্তীতে মারুফের অবস্থা অবনতি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাইভ সাপোর্ট জন্য তাকে ঢাকাস্থ রামপুরায় অবস্থিত মাল্টি কেয়ার হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরে রোববার সকাল ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারুফ মারা যায়।
মারুফের বাবা নুর ইসলাম বলেন, আমার ছেলেকে যারা মেরে ফেলছে তাদের বিচার চাই, তাদের ফাঁসি চাই।’
এদিকে মারুফের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে গা ঢাকা দিয়েছে প্রধান অভিযুক্ত মোফাজ্জেল সরদার।
এ ব্যাপারো ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, মারুফের মাথায় গুরতর আঘাত থাকায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের মা মাহিনুর বেগম বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এতে ১২ জনকে এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাত ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করেছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন। আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
What's Your Reaction?
আলমাস বেপারী, কালকিনি প্রতিনিধি, মাদারীপুরঃ