মাসদার হোসেনের বিরুদ্ধে সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, যা বললেন আইনমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্কঃ
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১:০২ পিএম
শেয়ার করুন:
মাসদার হোসেনের বিরুদ্ধে সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, যা বললেন আইনমন্ত্রী

বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ সংক্রান্ত ঐতিহাসিক মামলার বাদী এবং সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মাসদার হোসেনের বিরুদ্ধে এক মক্কেলের কাছ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণের পরও আইনি কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় উল্টো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ভুক্তভোগী। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান তার প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

জানা গেছে, গত বছরের ১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন নূর প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের লিগ্যাল অ্যান্ড এডমিন অফিসার জামাল হোসাইন। অভিযোগে বলা হয়েছে, কোম্পানির একটি কর সংক্রান্ত মামলার আপিল পরিচালনার জন্য আইনজীবী মাসদার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বেপারী। 

অভিযোগ অনুযায়ী, মামলাটি করমুক্ত করার আশ্বাস দিয়ে মাসদার হোসেন ১ কোটি ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। সেই মোতাবেক বিভিন্ন সময়ে চেকের মাধ্যমে তাকে ১ কোটি টাকা প্রদান করা হয়। এ ছাড়া ভ্যাট আপিলের জন্য আরও ২০ লাখ টাকা প্রদান করে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, টাকা নেওয়ার পর মাসদার হোসেন মামলার কোনো তদারকি করেননি এবং কোম্পানিকে কোনো তথ্য দেননি। পরবর্তীতে অন্য আইনজীবীর মাধ্যমে জানা যায়, মামলাটিতে ওই কোম্পানিকে উল্টো ৪২ লাখ ৯ হাজার ২৭৩ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, "আমি বিষয়টি পত্রিকায় দেখেছি। একজন মক্কেল সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের কাছে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন। তবে এ বিষয়ে সরাসরি আইন মন্ত্রণালয়ের কিছু করার নেই।"

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বার কাউন্সিল চাইলে তার পেশাগত সনদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। পাশাপাশি দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং বা আয়কর ফাঁকির বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখবে। 

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও পৃথকীকরণের ক্ষেত্রে মাসদার হোসেন একটি অতি পরিচিত নাম। ১৯৯৪ সালে তার দায়ের করা রিট আবেদনের প্রেক্ষিতেই ১৯৯৯ সালে আপিল বিভাগ ঐতিহাসিক রায় প্রদান করে, যার ফলশ্রুতিতে ২০০৭ সালে বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক হয়। আইন অঙ্গনে বহুল আলোচিত এই মামলাটি ‘মাসদার হোসেন মামলা’ হিসেবেই স্বীকৃত। 

এমন একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিপুল অর্থ আত্মসাতের এই অভিযোগে বর্তমানে আদালত পাড়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পক্ষ বর্তমানে তাদের অর্থ ফেরতসহ ক্ষতিপূরণ দাবি করছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।