সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেবে বাংলাদেশ: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্কঃ
১৭ জুন, ২০২৬ ৮:৫৮ পিএম
শেয়ার করুন:
সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেবে বাংলাদেশ: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অনুপ্রবেশ, মাদক, অস্ত্র চোরাচালানসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে থাকা সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকাগুলোতেও কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার পরিকল্পনা বিবেচনাধীন রয়েছে। 

বুধবার (১৭ জুন ২০২৬) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রশ্নোত্তর টেবিলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর লিখিত বক্তব্য উপস্থাপিত হয়।

সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিক এবং পাবনা-৫ আসনের শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্তে নিরাপত্তা ও পুশইনের তথ্য তুলে ধরেন। 

পুশইন প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে বাংলাদেশ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইন করা ২ হাজার ৩৬৯ জনের মধ্যে ১১ জনকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর এবং ১৮৩ জনকে পুশব্যাক করা হয়েছে। অবশিষ্টদের আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। এছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে বিএসএফের ৩৬টি পুশইনের চেষ্টা সফলভাবে প্রতিরোধ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। 

তিনি আরও জানান, মিয়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং হত্যা, অনুপ্রবেশ, মাদক, অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাচারসহ বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে সেখানে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভারত সীমান্তের স্পর্শকাতর স্থানগুলোতেও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।

সীমান্ত হত্যা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি একে অত্যন্ত দুঃখজনক এবং ‘মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেন। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনে বিষয়টি অত্যন্ত জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।"

প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার বন্ধ ও ক্ষতিপূরণের দাবি
সীমান্তে গুলিতে নিহত বাংলাদেশিদের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বিএসএফের গুলিতে নিহতদের পরিবারকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা বা দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদিত হয়নি। 

তবে তিনি উল্লেখ করেন, "দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সবসময়ই সীমান্তে আত্মরক্ষার অজুহাতে মারাত্মক ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্ত হত্যার ক্ষতিপূরণ ও দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য ভারতের ওপর পরোক্ষভাবে জোরালো চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।"

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।