ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন
ফরিদপুরে যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় স্ত্রী রুবাইয়া বেগম (২৫)কে হত্যার দায়ে স্বামী আহাদ শেখ (৩৩)কে যাবজ্জীবন স্বশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আহাদ শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আহাদ শেখ ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের কাজী বল্লভদী গ্রামের বাসিন্দা। নিহত রুবাইয়া বেগম একই উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদী গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে রুবাইয়া বেগমের সঙ্গে আহাদ শেখের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। বিয়ের তিন বছর পর আহাদ শেখ সৌদি আরব যাওয়ার জন্য স্ত্রীর পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। এর মধ্যে এক লাখ টাকা দেওয়া হলেও বাকি দুই লাখ টাকার জন্য তিনি চাপ দিতে থাকেন।পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১ আগস্ট যৌতুকের বাকি টাকা না পেয়ে আহাদ শেখ প্রথমে তার স্ত্রীকে মারধর করেন এবং পরে মুখে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা রোমেছা বেগম (৫৪) বাদী হয়ে আহাদ শেখ, তার মা ও তিন ভাইসহ মোট পাঁচজনকে আসামি করে সালথা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্ত করেন ফরিদপুর জেলা সিআইডি কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. আমিনুজ্জামান। তদন্ত শেষে তিনি ২০১৯ সালের ২৩ জুন আহাদ শেখ এবং তার দুই ভাই মোহাম্মদ শেখ (৩৮) ও মাহিম শেখ (৩৪)কে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
আদালতের পিপি গোলাম রব্বানী জানান, মামলার শুনানি শেষে আদালত স্বামী আহাদ শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। তবে তার দুই ভাই মোহাম্মদ শেখ ও মাহিম শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের বেকসুর খালাস দেন।
তিনি আরও বলেন, যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধি সুস্থ সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আদালতের এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।
What's Your Reaction?
জেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ