মোহাম্মদপুরে নির্মাণাধীন প্রকল্পে আড়াই কোটি টাকা চাঁদা দাবি, মারধর ও ভাঙচুর

অনলাইন ডেস্কঃ
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ৫:১৯ পিএম
শেয়ার করুন:
মোহাম্মদপুরে নির্মাণাধীন প্রকল্পে আড়াই কোটি টাকা চাঁদা দাবি, মারধর ও ভাঙচুর

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিং এলাকায় একটি নির্মাণাধীন প্রকল্পে দুই দফায় মোট আড়াই কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় প্রকল্পের শ্রমিকদের দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে আহত করা এবং মালামাল ভাঙচুর করার ঘটনা ঘটেছে। 

এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রকল্পের ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) মো. কাউসার রহমান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। 

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন—মোহাম্মদীয়া হাউজিং লিমিটেডের ২ নম্বর প্রধান সড়কের বাসিন্দা ইমরান কাজল (৪০), মো. সামসুদ্দোহা (৪৮), মো. আজানুর রহমান (৪৬) ও মো. তানভীর (৪৫)।

এজাহারের বিবরণ ও হামলার ঘটনা
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদপুর থানাধীন নবীনগর হাউজিংয়ের ১১ নম্বর সড়কের ৬০-৬২ নম্বর প্লটে একটি ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। আসামিরা দীর্ঘদিন ধরেই প্রকল্পটিতে চাঁদা দাবির পাঁয়তারা করছিলেন। 

গত ৬ অক্টোবর সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে আসামিরা লোহার রড, চেইন ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রকল্প এলাকায় বেআইনিভাবে প্রবেশ করেন। তারা ব্যবস্থাপক কাউসার রহমানের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তারা গালাগাল শুরু করেন।

একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিক মোশাররফ (৫৫), উম্মেদ আলী (৩৫), রুবেল (৩২) ও বাদশাকে (৫৩) লোহার রড ও অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এ সময় প্রকল্পের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও মালামাল ভাঙচুর করে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়। চলে যাওয়ার সময় তারা প্রাণনাশের হুমকি দেয়। 

এরপর গত ১৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আসামিরা পুনরায় প্রকল্পস্থলে এসে নতুন করে আরও ২ কোটি টাকা দাবি করেন এবং দাবি পূরণ না হলে কঠোর পরিণতির হুমকি দেন।

ভুক্তভোগীর বক্তব্য
প্রকল্পের ব্যবস্থাপক কাউসার রহমান বলেন, "আমরা কাজ শুরু করার পর থেকেই তারা নানাভাবে ঝামেলা করছিল। গত ৬ তারিখে এসে ৫০ লাখ টাকা দাবি করে এবং কর্মীদের পিটিয়ে ভাঙচুর চালায়। পরবর্তীতে ১৩ অক্টোবর তারা আবারও এসে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে হুমকি দেয়। বাধ্য হয়ে আমরা আইনের আশ্রয় নিয়েছি। হামলাকারীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় আছে কি না, তা আমাদের জানা নেই; পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছি।"

পুলিশের বক্তব্য 
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ হোসেন বলেন, "মামলার তদন্তভার পেয়েছি। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে পুলিশ কাজ করছে।"

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।