জনকল্যাণমুখী কাজে সব সময় সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্কঃ
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ৭:১৫ পিএম
শেয়ার করুন:
জনকল্যাণমুখী কাজে সব সময় সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

নিজ নিজ কর্ম ও নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের মাধ্যমে সমাজে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। 

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা এই তিন গুণী হলেন—বুয়েট ও বিসিএসের ক্যারিয়ার ছেড়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, জন্মগতভাবে দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও পা দিয়ে লিখে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং তিন দশক ধরে নিজ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ করে চলা পরিবেশপ্রেমী রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “দেশ গঠনে আপনাদের মতো আত্মনিবেদিত মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত উদ্যোগে সমাজের কল্যাণে সবাই এভাবে এগিয়ে এলে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলা অনেক সহজ হবে।” এ ধরনের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের কাজের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বুয়েট ছেড়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষকতায় নায়লা
সাক্ষাৎকালে প্রকৌশলী নায়লা শারাফের ব্যতিক্রমী পেশা নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে জনতা ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন এবং ৩৪তম বিসিএসেও উত্তীর্ণ হন। তবে আকর্ষণীয় ও নিরাপদ সরকারি চাকরির হাতছানি উপেক্ষা করে তিনি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়ানোর পথ বেছে নেন। 

গত সাত বছর ধরে তিনি নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। শিশুদের জন্য আনন্দদায়ক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে তিনি নিজ উদ্যোগেই নানা ধরণের ডিজিটাল কনটেন্ট ও শিক্ষা উপকরণ তৈরি করে পাঠদান করিয়ে আসছেন।

পা দিয়ে স্কুল চালাচ্ছেন হাতহীন আলতাফ হোসেন
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা আরেক অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্ব নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন। জন্ম থেকেই যাঁর দুটি হাত নেই। শারীরিক এই প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে তিনি পা দিয়ে লেখালেখি রপ্ত করেন। ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল’। 

নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থ দিয়ে গড়ে তোলা এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে এবং পাঠদানে নিয়োজিত আছেন ১০ জন শিক্ষক। পা দিয়েই তিনি বিদ্যালয়ের যাবতীয় দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করেন। তাঁর এই অদম্য জীবনসংগ্রামের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যালয়টির জন্য একটি নতুন আধুনিক ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

তিন দশক ধরে সড়ক সাজাচ্ছেন বৃক্ষপ্রেমী রেজাউল
ভোলার চরফ্যাশনের বাসিন্দা রেজাউল কিবরিয়া বাবুল পেশায় মসজিদের ইমাম হলেও পরিবেশ সুরক্ষায় গড়ে তুলেছেন অনন্য এক নজির। প্রায় তিন দশক ধরে নিজের শ্রম ও অর্থে সড়কের দুই পাশে হাজার হাজার গাছ রোপণ করে চলেছেন তিনি। 

এমনকি পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে তিনি নিজেই একটি নার্সারি গড়ে তোলেন এবং সেখান থেকে উৎপাদিত গাছের চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে তাঁর রোপণ করা সেই গাছগুলো আজ বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া ও পরিবেশকে সুরক্ষা দিচ্ছে।

সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের প্রত্যেকের জনকল্যাণমুখী উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং দেশ গঠনে যেকোনো সহযোগিতায় সরকার তাঁদের পাশে থাকবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।