হাসিনাকে পুশ ইন করুন, দেখি কত সাহস’: গোলটেবিলে বক্তারা

অনলাইন ডেস্কঃ
১৪ জুন, ২০২৬ ১১:৫১ এএম
শেয়ার করুন:
হাসিনাকে পুশ ইন করুন, দেখি কত সাহস’: গোলটেবিলে বক্তারা

সীমান্তে অব্যাহত হত্যা ও ভারত থেকে পুশইন (জোরপূর্বক লোক ঠেলে পাঠানো) বন্ধের দাবিতে ঢাকার একটি গোলটেবিল বৈঠকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। বক্তারা ভারতের আধিপত্যবাদী নীতির কড়া সমালোচনা করে বলেন, ভারতের ক্ষমতাসীন দল ধর্মীয় বিদ্বেষ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের অংশ হিসেবে মুসলমানদের বাংলাদেশে পুশইন করছে। একই সঙ্গে বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন, তবে ভারত কেন তাঁদের বাংলাদেশে পুশইন করছে না?

শনিবার (১৩ জুন ২০২৬) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’ নামক সংগঠনের উদ্যোগে ‘সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন।

শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর চ্যালেঞ্জ

বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন ভারতের নীতি নির্ধারকদের উদ্দেশে বলেন, "যদি সাহস ও বুকের পাটা থাকে, তবে শেখ হাসিনা এবং তাঁর নেতাকর্মীদের পুশইন করে বাংলাদেশে পাঠান; দেখি আপনাদের কত সাহস।" বিগত সরকারের সীমান্ত নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সীমান্তে একতরফা তোষণ নীতির কারণে বিগত সময়ে দেশের সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছে।

ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা

বাংলাদেশে সদ্য নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর একটি সাম্প্রতিক বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন বক্তারা[1][2]। ভারতের ১৪০ কোটি ও বাংলাদেশের ২০ কোটি জনসংখ্যাকে একত্রিত করার বিষয়ে হাইকমিশনারের দেওয়া বক্তব্যের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, "আমরা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করেছি। কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির অসম বন্ধুত্ব আমরা চাই না।"[1]

বক্তাদের বক্তব্য ও ক্ষোভ প্রকাশ

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন মো. ফারুক রহমান। তিনি বলেন, "ভারত নিজেকে গণতান্ত্রিক দেশ বলে দাবি করলেও তারা একটি আধিপত্যবাদী রাষ্ট্র হিসেবে আচরণ করছে। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সীমান্ত সমস্যা সমাধান করতে হবে। নতুবা দেশের জনগণ অস্ত্র হাতে রাত জেগে পাহারা দেবে এবং মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পিছপা হবে না।"

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হারুন সোহেল বলেন, "স্বাধীনতাযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতার উদ্দেশ্য এখন পরিষ্কার হয়ে উঠছে। তারা আমাদের ওপর শোষণ-নির্যাতন চালানোর জন্য এ দেশে একটি আজ্ঞাবহ সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল।"

জিয়াউর রহমান সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন খোকন বলেন, পুশইন ঠেকাতে দলমত নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমরা যেভাবে লড়াই করেছি, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধেও ঠিক একইভাবে সবাইকে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে।

পানি বণ্টন ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের দাবি

বক্তারা অভিযোগ করেন, ভারত কখনোই বাংলাদেশের ভালো চায়নি। যখন আমাদের পানির প্রয়োজন তখন পানি দেওয়া হয় না, আর যখন প্রয়োজন নেই তখন বাঁধের সব গেট খুলে দিয়ে ফসলি জমি ও জনপদ তলিয়ে দেওয়া হয়। তাঁরা সীমান্তে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনেরও তীব্র প্রতিবাদ জানান। সীমান্তে যেকোনো অপতৎপরতা রুখতে বিজিবি-কে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি পুশইন ঠেকাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জোরালো কূটনৈতিক ভূমিকা পালনের তাগিদ দেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হারুন সোহেল, জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম জিয়া, জিয়াউর রহমান সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন খোকন, ডিভাইন কোডেকের প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল্লাহ মানসুর আবির এবং জাতীয়তাবাদী চালক দলের সভাপতি জসিম উদ্দিন কবির প্রমুখ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।