বাজেট ঘোষণার পর একটি পণ্যেরও দাম বাড়েনি

অনলাইন ডেস্কঃ
১৪ জুন, ২০২৬ ১১:৪০ এএম
শেয়ার করুন:
বাজেট ঘোষণার পর একটি পণ্যেরও দাম বাড়েনি

বাজেট ঘোষণার পর দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি, বরং ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 

শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে আয়োজিত এক জনসভা এবং সদরের পিএমখালী এলাকায় ঐতিহাসিক ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিএনপির রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, বরং দেশের ২০ কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য। আমরা ‘করব কাজ, গড়ব দেশ’ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথেই এগিয়ে যাচ্ছি।” তিনি উল্লেখ করেন, এবারের বাজেটে কৃষি ও কৃষককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার কৃষককে বিশেষ কৃষি কার্ডের মাধ্যমে নগদ আড়াই হাজার টাকা করে প্রণোদনা দেওয়া হবে। এছাড়া লবণচাষিরা যাতে লাভবান হতে পারেন, সেজন্য লবণের একটি যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের আশ্বাসও দেন তিনি।

নারী শিক্ষার প্রসার ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া নারীদের জন্য যে শিক্ষার দুয়ার উন্মুক্ত করেছিলেন, সেই ধারাবাহিকতায় এবার স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ নিশ্চিত করার কাজ চলছে।

বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার কড়া জবাব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “কর বাড়ানো হয়েছে কেবল স্বাস্থ্যহানিকর মদ ও সিগারেটের ওপর। কিন্তু বিরোধী দল তা নিয়েও সমালোচনা করছে। তাদের উদ্দেশ্য দেশের জনগণ ভালোভাবেই বুঝতে পারছে।” 

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে চার থেকে ছয় লেনে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়ে বলেন, বিগত ১৭ বছরে এই মহাসড়কের কোনো উন্নয়ন করা হয়নি; বিএনপি সরকার যেভাবে রেখে গিয়েছিল, সড়কটি ঠিক সেভাবেই পড়ে ছিল।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের পিএমখালীতে নিজ হাতে মাটি কেটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের সূচনা করেন। ১৯৭৭ সালে গ্রামীণ অর্থনীতি ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশব্যাপী যে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন, এটি ছিল তারই একটি অংশ। দীর্ঘ প্রায় অর্ধশতাব্দী পর তাঁরই ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন। এই প্রকল্পের ফলে সাড়ে আট হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং বছরে প্রায় ১২ হাজার টন কৃষি উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করে বৃক্ষরোপণ করেন। এছাড়া পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং কক্সবাজার শহরে সুধী সমাবেশে অংশ নেন। সফর চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিস্থলে যাতায়াত করেন। এ সময় গাড়িতে তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহধর্মিণী অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমেদ।

বিকালে পেকুয়ায় দেশের দ্বিতীয় ‘জুলাই শহীদ’ ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করে ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র অনুদান হিসেবে প্রদান করেন। 

সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মাবুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল প্রমুখ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।