আপন বড় ভাইয়ের অত্যাচারে বিধবা ছোট বোন পারভীন আক্তার একমাএ ছেলেকে নিয়ে বাড়ী ছাড়া আইনের দরজায় ঘুরছে সঠিক বিচারের জন্য।

রবিউল ইসলাম, আশুলিয়া প্রতিনিধি, ঢাকাঃ
১৩ জুন, ২০২৬ ৯:০৫ পিএম
শেয়ার করুন:
আপন বড় ভাইয়ের অত্যাচারে বিধবা ছোট বোন পারভীন আক্তার একমাএ ছেলেকে নিয়ে বাড়ী ছাড়া আইনের দরজায় ঘুরছে সঠিক বিচারের জন্য।

আশুলিয়া থানার শিমুলিয়া ইউনিয়নের কলতাসুতি গ্রামের বিধবা পারভীন আক্তার ও তার এতিম সন্তান কে জোর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয় এবং অর্থ আত্মসাৎ করে তারই আপন বড় ভাই আমজাদ হোসেন এমন অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগী পারভীন আক্তার। 

পারভীন আক্তার জানান আমজাদ হোসেন তার আপন বড় ভাই,  স্বামী মৃত্যুর  পর  ছেলে আর মেয়ে কে নিয়ে তিনি তার বাবার বাড়িতে দীর্ঘ দিন যাবৎ বসবাস করে আসছে  

ঘটনার দিন হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায় পারভীন আক্তার প্রায় দুই ঘন্টা পর পাশের বাড়িতে বিদ্যুতের লাইন দেখতে পেয়ে অবাক হয়ে যায় একমাত্র ছেলেকে নিয়ে বৈদ্যুতিক বেকার পড়ে গিয়েছে কিনা দেখতে গেলে  বেকার বন্ধ রয়েছে এমনটি দেখতে পায় সেক্ষেত্রে বেকারের কার্যক্রম সচল করার জন্য প্রস্তুতি নিলে হঠাৎ আমজাদ হোসেনের স্ত্রী ও তার শালিকা পারভিন আক্তারকে  বাধা দেয় আমজাদ হোসেনের স্ত্রী ও তার শালিকা পারভিন আক্তারের সাথে প্রচন্ড  তর্কে জড়িয়ে পড়ে এক সময় তা হাতাহাতির রূপ নেয় পরবর্তীতে পারভিন আক্তারের বড় ভাই আমজাদ হোসেন তার স্ত্রী ও শালিকার পক্ষ নিয়ে আপন বোনকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে মেরে ফেলতে চাইলে  পারভিন আক্তার নিজের প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে ঘরে গিয়ে দরজা আটকে দেয়,  আমজাদ হোসেন তার স্ত্রী শালিকা সহ পারভিন আক্তার কে মারতে মরিয়া হয়ে উঠে আটকে থাকা পারভিন আক্তার কে মারতে না পারার ক্ষোভে দরজা  ভাঙ্গার চেষ্টা চালিয়ে যায় দরজা ভাঙতে না পারায় বাহির থেকে তালাবদ্ধ করে রাখা হয় , পারভিন আক্তার তার নিজ জীবন ও  সন্তানের জীবন বাঁচাতে  জরুরি সেবা ৯৯৯ ফোন করে

খবর পেয়ে ঘটনা স্হলে পৌঁছে  আশুলিয়া থানার এস আই তাপস পারভিন আক্তার কে উদ্ধার করে 

এমন ঘটনা জানতে পেরে  পারভিন আক্তারের বড় বোন ভাগিনা ও ভাগ্নি তাকে উদ্ধার করে আশুলিয়া থানা পুলিশের সহযোগিতায় বড় বোনের বাসায় নিয়ে আসে। 

পারভিন আক্তার আশুলিয়া থানায় উপস্থিত হয়ে  একটি জিডি দায়ের করে ( জিডি নং : ৫০৫) জিডির ভিত্তিতে এসআই সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে  তদন্তে আসে তদন্তে সত্যতা মিললে  এস আই সাইফুল ইসলাম পারভীন আক্তার ও আমজাদ হোসেনকে  দ্বন্দ্ব মিটিয়ে সমাধানের লক্ষ্যে চেষ্টা চালিয়ে যায়,  চেষ্টায় পারভিন আক্তারের  সম্মতি থাকলেও আমজাদ হোসেন ধরা ছোয়ার বাইরে থাকে। 

পারভিন আক্তার এমন অবস্থা দেখতে পেয়ে তার আত্মীয়-স্বজনদের সাথে আলাপ আলোচনা করে একটি সংবাদ সম্মেলন করে, পারভিন আক্তার অভিযোগ করে  বড় ভাই আমজাদ হোসেনকে  বাড়ি নির্মাণের জন্য  নগদ ২০ লক্ষ টাকা দেন বাড়ির কাজ সম্পন্ন না করে আমজাদ হোসেন টাকা আত্মসাৎ করে এবং নির্মাণাধীন সামগ্রী তিনি তার নিজ প্রয়োজনে ব্যবহার করে 

পারভিন আক্তার বলেন আমার   মৃত বাবার বিক্রয়কৃত সম্পত্তির  টাকা  বড় ভাই আমজাদ হোসেনের কাছে গচ্ছিত রেখেছিলাম  টাকা চাইলে আমজাদ হোসেন তা দিতে  অস্বীকৃতি জানায়, আমি একজন বিধবা আমার সন্তান এসএসসি পরীক্ষা দেবে আমজাদ হোসেনের ভয়ে আমার সন্তান স্কুল ও প্রাইভেট একদম বন্ধ হয়ে গিয়েছে আমি তাকে স্কুলে পাঠাতে পারছি না বড় ভাই আমজাদ হোসেন আমার বাড়ির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন না করে টাকা আত্মসাৎ করে আমাকে ও আমার সন্তানকে আমার সম্পত্তি থেকে  বঞ্চিত করার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন যাবত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বারবার তার চেষ্টা সফল না হওয়ায় তিনি এবার আমাদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। 

পারভীন আক্তারের বড় বোন ও দুলা ভাইয়ের সাথে কথা বললে জানায় বসতকৃত সম্পত্তি তার মার তিনি সম্পত্তি কউকে লিখে দিয়ে যায়নি বসতকৃত বাড়িটি পারভীন আক্তারের  অর্থ দেওয়া আছে ,  এই সম্পত্তি ৫ ভাই বোনের এমতাবস্থায় আমাদের ভাগবাটোয়ারাও হয়নি আমজাদ হোসেন সম্পত্তির লোভে ও টাকা আত্মসাৎ করার লক্ষ্যে দীর্ঘ দিন যাবৎ এমন অত্যাচার করে যাচ্ছে আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং আইনের সহোযোগিতা চাই। 

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার এসআই সাইফুল ইসলামের সাথে কথা বললে জানান পারভিন আক্তারের বিষয়টি অত্যন্ত  গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। 

বীধবা পারভিন আক্তার তার সন্তানের নিরাপত্তা  বসতবাড়ি ও টাকা ফিরে পেতে আইনের সহযোগিতা চেয়েছে এবং মাননীয়  প্রধানমন্ত্রীর  সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।