আইভীর ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের পর গ্রেপ্তার আইনজীবীসহ ৩

অনলাইন ডেস্কঃ
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ৪:১৫ পিএম
শেয়ার করুন:
আইভীর ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের পর গ্রেপ্তার আইনজীবীসহ ৩

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে আদালত প্রাঙ্গণে স্লোগান দেওয়ার ঘটনার জেরে তাঁর আইনজীবীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোররাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের আল্লামা ইকবাল রোড ও দেওভোগের গার্মেন্ট গলি এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন—নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি ও আবৃত্তিশিল্পী অ্যাডভোকেট জিয়াউল ইসলাম কাজল, তাঁর ভাই আতিকুল ইসলাম এবং অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান তুষার। তুষার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আসাদুজ্জামানের ছেলে।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি পুরোনো মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলার মূল এজাহারে তাঁদের নাম না থাকলেও তদন্তের স্বার্থে তাঁদের আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সিদ্ধিরগঞ্জে সংঘটিত তুহিন হত্যা মামলায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজিরা দেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। আদালত প্রাঙ্গণ থেকে গাড়িতে ওঠার সময় আইভী এবং তাঁর সাথে থাকা নেতাকর্মীরা ‘জয় বাংলা’ ও ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন। নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের পক্ষে আদালত প্রাঙ্গণে এমন স্লোগান দেওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই পুলিশ এ ব্যবস্থা নেয়।

এদিকে আইনজীবী জিয়াউল ইসলাম কাজল ও মাহবুবুর রহমান তুষারের সহকর্মীরা জানিয়েছেন, তাঁরা কেবল পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে আইভীর পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মামলার নথিপত্র হাতে তাঁরা স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন, কোনো স্লোগানে অংশ নেননি।

জিয়াউল ইসলাম কাজলকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা রফিউর রাব্বি। তিনি বলেন, “কাজল সবসময় সন্ত্রাস, খুন ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। ত্বকীর হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে এবং ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তিনি জোরালো ভূমিকা পালন করেছেন। পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তারের পেছনে যে যুক্তি দেখাচ্ছে তা সঠিক নয়।”

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, “কারও পুরোনো অবস্থান এবং বর্তমান অবস্থান ভিন্ন হতে পারে। তদন্তের স্বার্থেই তাঁদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।