ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচু্ক্তিতে বাগড়া ইসরায়েলের, জোরালো আক্রমণের ঘোষণা

অনলাইন ডেস্কঃ
১৫ জুন, ২০২৬ ৩:৩৯ পিএম
শেয়ার করুন:
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচু্ক্তিতে বাগড়া ইসরায়েলের, জোরালো আক্রমণের ঘোষণা

চলমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান ঘটাতে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি শান্তিচুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে, ঠিক তখনই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পরিধি আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির এই অনড় অবস্থানের কারণে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সংকট সমাধানের পথ আরও দীর্ঘায়িত ও ঘনীভূত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

প্রস্তাবিত এই শান্তিচুক্তির বিরোধিতায় একাট্টা হয়েছেন ইসরায়েলের কট্টরপন্থি থেকে শুরু করে মধ্য-বামপন্থি রাজনৈতিক নেতারাও। চুক্তিতে পৌঁছানোর পূর্বশর্ত বা ‘রেডলাইন’ হিসেবে লেবাননে হামলা বন্ধের যে দাবি তেহরান জানিয়েছে, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেল আবিব। উল্টো লেবাননে চলমান সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ইসরায়েলি নীতি-নির্ধারকরা।

সেনা প্রত্যাহারে নারাজ ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘হারেৎজ’-এর বরাতে জানা গেছে, দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সীমান্ত ও ইসরায়েলি বসতিগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) লেবানন, সিরিয়া এবং গাজার নিরাপত্তা অঞ্চলগুলোতে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান করবে। বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা আইডিএফ-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখান থেকে কোনো সেনা প্রত্যাহার করা হবে না বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

‘চুক্তি আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়’: বেন-গভির
ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এই শান্তিচুক্তির কঠোর বিরোধিতা করে নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে লিখেছেন, "এই চুক্তি ইসরায়েলের জন্য কোনোভাবেই বাধ্যতামূলক নয় এবং এটি আমাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় না।" হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণ নির্মূল না করা পর্যন্ত ইসরায়েল কোনোমতেই সন্তুষ্ট হবে না এবং দখলকৃত অঞ্চলগুলো থেকে পিছু হটবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

নেতানিয়াহুর সমালোচনা ও দেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া
এদিকে ইসরায়েলের মধ্য-বামপন্থি ডেমোক্র্যাট দলের নেতা ইয়ার গোলান এই শান্তিপ্রক্রিয়াকে নেতানিয়াহু সরকারের চরম ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েলি যোদ্ধাদের রক্ত ও পাইলটদের সাহসিকতায় যে সামরিক সাফল্য অর্জিত হয়েছিল, এই চুক্তির মাধ্যমে তা এক নিমেষেই ধূলিসাৎ হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘দুর্বল ও বিচ্ছিন্ন’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, নেতানিয়াহুর এমন নিষ্ক্রিয়তায় ইসরায়েল দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং শত্রুরা ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির পটভূমি ও পাকিস্তানের ভূমিকা
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে ইসরায়েল। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু হলেও সেখানে ইসরায়েলকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। এই শান্তিপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ইরানের জব্দ করা প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে মার্কিন প্রশাসন।

লেবাননজুড়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ অভিযানে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এর জের ধরে উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা শুরু করে লেবানন-ভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। জবাবে ২ মার্চ থেকে লেবাননের বিরুদ্ধে নতুন যুদ্ধ শুরু করে ইসরায়েল।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ৭১১ জন লেবানিজ নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে ইসরায়েলি বিমান ও স্থল হামলায় লাখ লাখ ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর আকস্মিক উচ্ছেদ আদেশের কারণে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন লাখো বেসামরিক মানুষ, যার ফলে দেশটিতে এক ভয়াবহ মানবিক ও শরণার্থী সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।