প্রতিবন্ধী মায়ের অসহায়ত্বের সুযোগে নিজের মেয়েকে ধর্ষণ পাষণ্ড বাবা পুলিশের হাতে গ্রেফতার!

রবিউল ইসলাম, আশুলিয়া প্রতিনিধি, ঢাকাঃ
১৬ জুন, ২০২৬ ১০:৫৬ এএম
শেয়ার করুন:
প্রতিবন্ধী মায়ের অসহায়ত্বের সুযোগে নিজের মেয়েকে ধর্ষণ পাষণ্ড বাবা পুলিশের হাতে গ্রেফতার!

আশুলিয়ায় নিজের ১৪ বছর বয়সী আপন মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে সুলতান (৪৫) নামের এক পাষণ্ড বাবাকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। মা শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ার সুযোগ নিয়ে নিজ ঘরেই এই জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করে ওই বাবা। এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সুলতানের মূল বাড়ি বরিশাল জেলার মোলাদী থানার বাটাপুর গ্রামে। সে আশুলিয়ার গাজীরচট রশিদ মার্কেট এলাকায় মোঃ মাসুদ নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে পরিবার সহ বসবাস করে আসছিল।

ভুক্তভোগী কিশোরী মোছাঃ নিপুণ (১৪) তার প্রতিবন্ধী মায়ের সাথে ওই ঘরেই থাকত। মায়ের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে সুলতান তার নিজের মেয়ের ওপর এই পাশবিক নির্যাতন চালায়। 

জানা যায়, গত প্রায় ৩ মাস আগে রোজার ঈদের সময় মেয়েটিকে প্রথমবার ভয়-ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে তার বাবা। এরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ গত ৭ দিন আগে রাতে মেয়েটি ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় তাকে আবারও ধর্ষণ করা হয়।

পৃথিবীতে সন্তানের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হলো মা-বাবার কোল। সেখানে যদি একজন বাবা নিজেই এমন নরপশুতে পরিণত হয়, তবে সন্তানরা কোথায় যাবে আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং ধর্ষক পিতার দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসি চাই।

ঘটনাটি আজ এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আজ ১৫ জুন (সোমবার) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ আতোয়ার রহমান দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং অভিযুক্ত পিতা সুলতানকে জনরোষ থেকে উদ্ধার করে গ্রেফতার করেন।

এই বিষয়ে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ​খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত সুলতান নিজের মেয়েকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে।

ভুক্তভোগী কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এই জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, যে বাবা নিজের সন্তানকে রক্ষা করার কথা, সে যখন এমন পৈশাচিক কাণ্ড ঘটাতে পারে, তখন তার একমাত্র শাস্তি হওয়া উচিত মৃত্যুদণ্ড। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এই নরপিশাচের ফাঁসি কার্যকর করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।