শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনে সেনাবাহিনীকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্কঃ
১০ জুন, ২০২৬ ১২:৫১ পিএম
শেয়ার করুন:
শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনে সেনাবাহিনীকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি শক্তিশালী ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনে সেনাবাহিনীকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

আজ বুধবার (১০ জুন) ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের গৌরবময় অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বিশ্বশান্তি রক্ষায় দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গকারী ১৭৫ জন বীর শহীদ এবং আহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও শ্রদ্ধা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বিশ্বমঞ্চে আমাদের শান্তিরক্ষীরা যে অসামান্য কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, তা শত প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা এবং কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়েই সম্ভব হয়েছে। দেশের এই অর্জিত গৌরব যেন কোনোভাবেই ম্লান না হয়, তা রক্ষা করা সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান কর্তব্য।"

শান্তিরক্ষা মিশনে নারীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠা দেশকে আন্তর্জাতিক মহলে আস্থার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি নারী সদস্যদের অংশগ্রহণ দেশের ভাবমূর্তিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের দুই লাখেরও বেশি সেনা ও পুলিশ সদস্য ৪৩টি দেশের মোট ৬৩টি মিশনে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে বিশ্বের ৯টি মিশনে ৪ হাজার ২১২ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিয়োজিত রয়েছেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, "১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর স্বাধীনতার ঘোষকের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী যেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল, ঠিক তেমনি ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সশস্ত্র বাহিনীর ওপর আসা সর্বগ্রাসী আঘাতসহ সব ধরণের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আমাদের বাহিনীকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।" তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউনিফর্মধারী বাহিনীর মূল চালিকাশক্তি হলো পেশাদারিত্ব, একতা, শৃঙ্খলা এবং যথাযথ চেইন অব কমান্ড বজায় রাখা।

বর্তমান যুগের যুদ্ধকৌশল ও নিরাপত্তা ঝুঁকি পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক সময়ে সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার এবং তথ্যযুদ্ধের (ইনফরমেশন ওয়ারফেয়ার) মতো নতুন নতুন হুমকি তৈরি হয়েছে। এসব ঝুঁকি সফলভাবে মোকাবিলা করতে সশস্ত্র বাহিনীকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক করে গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ২০২৫ সালে সুদানে শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে নিহত ৬ জন সেনাসদস্যের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন এবং আহত সদস্যদের সম্মানিত করেন। এরপর তিনি বিভিন্ন মিশনে দূরদেশে কর্মরত শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে মতবিনিময় করেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।