দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগে নতুন দিগন্ত: ৯ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণের চুক্তি সই

অনলাইন ডেস্কঃ
১১ জুন, ২০২৬ ১:১৭ পিএম
শেয়ার করুন:
দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগে নতুন দিগন্ত: ৯ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণের চুক্তি সই

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনতে নির্মিত হতে যাচ্ছে ‘৯ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু’। এই সেতুটি নির্মাণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও চীন সরকারের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। 

চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্ম সচিব (বৈদেশিক সহায়তা অধিশাখা) ড. মো. মোকছেদ আলী, এনডিসি। চীন সরকারের পক্ষে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের কাউন্সেলর মি. সং ইয়াং। 

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত মি. ইয়াও ওয়েন। এছাড়া অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (আরএইচডি), সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং চীন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সেতুর অবস্থান ও গুরুত্ব:
প্রস্তাবিত এই সেতুটি পটুয়াখালী জেলার লেবুখালী–বাউফল–গলাচিপা–আমড়াগাছিয়া জেলা মহাসড়কের (জেড-৮৮০৬) ১৪তম কিলোমিটারে লোহালিয়া নদীর ওপর নির্মিত হবে। মূলত বগা ফেরিঘাটের ভাটির দিকে সেতুটি গড়ে তোলা হবে। দীর্ঘদিন ধরে বাউফল, গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার লাখো মানুষ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কৃষিপণ্য, মৎস্যসম্পদ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পরিবহনের জন্য বগা ফেরিঘাটের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। সেতুটি নির্মিত হলে এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং যাতায়াত আরও সহজ ও নিরাপদ হবে।

প্রকল্পের বিবরণ ও অর্থায়ন:
প্রকল্পটির মোট দৈর্ঘ্য ধরা হয়েছে প্রায় ২ দশমিক ৬২ কিলোমিটার। এর মধ্যে মূল সেতুর দৈর্ঘ্য প্রায় ১ দশমিক ৩৪৮ কিলোমিটার এবং সংযোগ সড়ক বা অ্যাপ্রোচ রোডের দৈর্ঘ্য প্রায় ১ দশমিক ২৭২ কিলোমিটার। 

চুক্তির শর্তানুযায়ী, মূল সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যয় অনুদান হিসেবে প্রদান করবে চীন সরকার। অন্যদিকে, ভূমি অধিগ্রহণ, ইউটিলিটি স্থানান্তর এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বহন করবে বাংলাদেশ সরকার।

পরবর্তী করণীয় ও প্রত্যাশিত প্রভাব:
চুক্তি স্বাক্ষরের পর পরবর্তী ধাপে চীন সরকারের মনোনীত প্রতিষ্ঠান সেতুর বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন ও তা চূড়ান্ত করার কাজ সম্পন্ন করবে। একই সঙ্গে এই প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নের কাজও এগিয়ে চলছে। প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরপরই সেতুর মূল নির্মাণকাজ শুরু হবে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ৯ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুটি নির্মিত হলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। এতে যাতায়াতের সময় ও খরচ যেমন কমবে, তেমনি কৃষি, মৎস্য, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতের বিকাশে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হবে। সেতুটি দক্ষিণাঞ্চলের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।