এক-এগারোর আলোচিত চরিত্র ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা আফজাল নাছের গ্রেপ্তার
এক-এগারো সরকারের অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত চরিত্র, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক কর্মকর্তা বরখাস্তকৃত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরকে (৬১) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গত রোববার দিবাগত গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ডিবি সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে প্রাপ্ত তথ্যের সূত্র ধরে আফজাল নাছেরকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ২০০৭-০৮ সালের এক-এগারো সরকারের সময় বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতার ওপর অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে আফজাল নাছেরের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন সময় ভুক্তভোগী নেতাদের বর্ণনায় তাঁর নাম উঠে এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে হেনস্তা ও জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের একটি বিতর্কিত ভিডিও ধারণে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া ব্যবসায়ী মোসাদ্দেক আলী ফালুর ওপর অকথ্য নির্যাতনের পেছনেও তাঁর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর প্রগতি সরণির শাহজাদপুর এলাকায় গুলিতে নিহত হন বাহাদুর হোসেন মনির। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় ইউনাইটেড গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বরখাস্ত) আফজাল নাছেরকেও আসামি করা হয়েছে। ডিবি পুলিশ বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে।
আফজাল নাছেরের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার মজিরখিল এলাকায়। ১৯৮৪ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। ২০০৬ সালের মার্চ থেকে ২০০৮ সালের মার্চ পর্যন্ত তিনি ডিজিএফআইতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত সোমবার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং গত বুধবার ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তাঁরা ডিবি হেফাজতে রিমান্ডে রয়েছেন। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই গ্রেপ্তার অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ