এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
জামালপুরের বকশীগঞ্জ সীমান্তে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে টানটান উত্তেজনার কেন্দ্রে থাকা সেই অসহায় বৃদ্ধের পরিচয় অবশেষে মিলেছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইনের শিকার হওয়া ওই বৃদ্ধের নাম ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মন (৬৫)। তিনি রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের চাঁন্দলাই হিন্দু পাড়ার বাসিন্দা। তিনি গত দুই মাস ধরে নিখোঁজ ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে তাঁর পরিবার।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ওই বৃদ্ধকে উদ্ধার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধারের পর তাঁকে বকশীগঞ্জ থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
যেভাবে শূন্যরেখায় আটকে পড়েন ষষ্ঠী চন্দ্র
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোররাতে বকশীগঞ্জের কামালপুর সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ সাতজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীদের তীব্র বাধার মুখে বাকি ছয়জন ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে গেলেও মানসিক ভারসাম্যহীন এই বৃদ্ধ শূন্যরেখায় আটকা পড়েন। বুধবার (১০ জুন) দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক হলেও বিষয়টির কোনো সমাধান হয়নি। ফলে খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টির মধ্যে অনাহারে দিন কাটাতে হয় এই বৃদ্ধকে। অবশেষে মানবিক দিক বিবেচনা করে এবং তাঁর বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নিশ্চিত হওয়ার পর বিজিবি তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে পরিচয় শনাক্ত
ষষ্ঠী চন্দ্রের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় তিনি নিখোঁজ হওয়ার পর থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা অভিযোগ করতে পারেননি। তবে সীমান্তে এক বৃদ্ধের আটকে থাকার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা তাঁর স্বজনদের নজরে আসে। ভিডিও দেখে ষষ্ঠী চন্দ্রকে চিনতে পেরে পরিবারটি বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করে।
ষষ্ঠী চন্দ্রের ভাতিজা গোপাল চন্দ্র বর্মন বলেন, "কাকা দুই মাস আগে হঠাৎ নিখোঁজ হন। আমরা দিনমজুর, মানুষের বাড়ি চেয়ে-চিন্তে খাই। তাই পুলিশ-থানা করতে পারিনি। ফেসবুকে ওনার আটকে থাকার ভিডিও দেখে চিনতে পেরে আমরা বিজিবির সাথে যোগাযোগ করি। আমার বাবা কাকাকে ফিরিয়ে আনতে ইতোমধ্যে জামালপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।"
মানসিক ভারসাম্যহীনতা ও নিখোঁজের পটভূমি
স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ হাসান জনি জানান, ষষ্ঠী চন্দ্রের পরিবারে স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। কাজকর্ম নিয়ে পারিবারিক টানাপোড়েনের কারণে রাগ করে হয়তো তিনি বাড়ি থেকে চলে যান। নিখোঁজ হওয়ার পরপরই তিনি বাড়ির কাছে গোদাগাড়ী সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তখন বিজিবি তাঁকে আটক করলেও মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে ছেড়ে দেয়। এরপর থেকেই মূলত তিনি নিখোঁজ ছিলেন এবং কীভাবে সেখান থেকে শত মাইল দূরে জামালপুর সীমান্তে পৌঁছালেন, তা এখনও রহস্যের সৃষ্টি করছে।
পুলিশের বক্তব্য
গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ আতিকুর রহমান বলেন, "আমরা বৃদ্ধের বিষয়ে তথ্য পেয়ে খোঁজখবর শুরু করি এবং তাঁর স্থায়ী পরিচয় নিশ্চিত হতে সক্ষম হই।"
অন্যদিকে বকশীগঞ্জ থানার ওসি মো. মকবুল হোসেন জানান, বৃদ্ধ ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মন এখন সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদ আছেন। তাঁর পরিবারের লোকজন জামালপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। তাঁরা থানায় এসে পৌঁছালেই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বৃদ্ধকে তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
মাগুরা | ৫ অক্টোবর, ২০২৪
ফরিদপুর | ২১ অক্টোবর, ২০২৫
মাদারীপুর | ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
ফরিদপুর | ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
ফরিদপুর | ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
ফরিদপুর | ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
পিরোজপুর | ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।