কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: উদ্ধার ১০ মরদেহের মধ্যে মঠবাড়িয়ার শিক্ষিকা মুক্তার মরদেহ শনাক্ত হয়নি

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন ‘টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্

মোঃ নাজমুল হোসেন, জেলা প্রতিনিধি, পিরোজপুরঃ
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২:৫১ পিএম
শেয়ার করুন:
কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: উদ্ধার ১০ মরদেহের মধ্যে মঠবাড়িয়ার শিক্ষিকা মুক্তার মরদেহ শনাক্ত হয়নি

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন ‘টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধার হওয়া ১০ জনের মরদেহের মধ্যে এখনো পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার (২৯) মরদেহ শনাক্ত করতে পারেনি তার পরিবার। 

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে মুক্তার স্বামী ও ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি দেওয়ান ফয়সাল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পারিবারিক ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুদিন আগে বিদ্যালয় ছুটির সুযোগে দুই বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে যান মুক্তা। তারা পাটুয়ারটেক সৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ওঠেন। শনিবার সকালে বান্ধবীরা সৈকতে হাঁটতে যাওয়ার জন্য মুক্তাকে ডাকেন। তবে তিনি ক্লান্ত থাকায় ঘুমাবেন বলে রিসোর্টের কক্ষেই থেকে যান। বান্ধবীরা বের হওয়ার মাত্র ২০ মিনিটের মাথায় পুরো রিসোর্টে হঠাৎ ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় প্রশাসন। সকাল সোয়া ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বেলা ১১টার দিকে পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

নিহতদের মধ্যে ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিয়া কবির (৩৩) ও ফাইজান আহমেদসহ আরও বেশ কয়েকজন রয়েছেন। তবে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে আগুনে পুড়ে যাওয়া একজনের সঙ্গে মুক্তার সাদৃশ্য থাকলেও তা নিশ্চিত হতে পারেনি স্বজনরা।

নিখোঁজ নাসরিন আক্তার মুক্তা পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর রাজপাড়া গ্রামের খানবাড়ির বাসিন্দা মোস্তফা কামালের মেয়ে। তিনি ঢাকার সাভারের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘স্বপ্ন বিলাস স্কুলে’ শিক্ষকতা করতেন। 

মুক্তার ফুফাতো ভাই ইমরান হাজী বলেন, "উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর কোনোটিই নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আমরা থানায় যোগাযোগ করছি। বোন-জামাই মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছেন। পরিবারের সদস্যরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। মরদেহ শনাক্ত হলে দ্রুত গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হবে।"

এদিকে এ ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন মঠবাড়িয়া পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সদস্য কে এম হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, মরদেহ গ্রামে আনা হলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানাজায় অংশ নেবেন। শোক প্রকাশ করেছেন পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দুলালও।

এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম জানান, "আমরা শোকাহত পরিবারটির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের চেষ্টা করছি এবং স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নিয়ে সব ধরনের সহায়তা করার চেষ্টা করছি।"

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।