যেভাবে হত্যা করা হয় বুলেটকে

অনলাইন ডেস্কঃ
Apr 27, 2026 - 12:54
যেভাবে হত্যা করা হয় বুলেটকে

চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় নিজের ভাড়া বাসায় ফিরছিলেন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী (৩৪)। উদ্দেশ্য ছিল একমাত্র ছেলে অব্যয় বৈরাগীর প্রথম জন্মদিন উদ্‌যাপন করা। কিন্তু সেই আনন্দ রূপ নিল বিষাদে। পথে পেশাদার ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে নির্মমভাবে প্রাণ হারাতে হলো তাকে। এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১১। 

র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে হত্যার লোমহর্ষক বিবরণ। গত শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম থেকে বাসে করে কুমিল্লায় ফিরছিলেন বুলেট বৈরাগী। পদুয়ার বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে কিছুটা সামনে নেমে যান তিনি। পুনরায় বাসস্ট্যান্ডে ফিরে আসার জন্য তিনি একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। কিন্তু তিনি জানতেন না, ওই অটোরিকশাতেই ওঁত পেতে ছিল চার পেশাদার ছিনতাইকারী। 

অটোরিকশার সামনের আসনে চালকসহ দুজন এবং পেছনে দুজন বসে ছিল। "আর একজন যাত্রী হলেই ছেড়ে দেব"—চালকের এমন কথায় বুলেট পেছনের আসনে ওঠেন। মাঝপথে ছিনতাইকারীরা অস্ত্র দেখিয়ে তার কাছে থাকা সর্বস্ব কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ধারণা করা হচ্ছে, বুলেট তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং ধস্তাধস্তি হয়েছিল। একপর্যায়ে সর্বস্ব লুটে নিয়ে চলন্ত সিএনজি থেকে তাকে রাস্তায় ফেলে দেয় ঘাতকরা। মহাসড়কে ছিটকে পড়ার সময় মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি, যা তার মৃত্যুর কারণ হয়। বুলেটকে ফেলে দিয়ে ছিনতাইকারীরা চৌয়ারা বাজার এলাকার উলুর চর মৌজার আজিজ ম্যানশনের দিকে পালিয়ে যায়।

নিখোঁজের ৭ ঘণ্টা পর শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকার একটি হোটেলের পাশের ফুটপাত থেকে বুলেটের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ। 

হত্যাকারীদের ধরতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে র‍্যাব-১১। সোমবার (২৭ এপ্রিল) র‍্যাবের অভিযানে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে চারজন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় এবং অপরজনের কাছ থেকে নিহত বুলেটের ব্যবহৃত ব্যাগ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনই আগে থেকে রেলওয়ে ডাকাতি মামলার তালিকাভুক্ত আসামি।

এই নির্মম হত্যাকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া র‍্যাব-১১-এর এক কর্মকর্তা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমার স্ত্রী বারবার বলছিল এই ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করো। আমি নিজেও গত কয়েক রাত ঘুমাতে পারিনি। ঘাতকদের শনাক্ত করতে আমরা সবাই মিলে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছি।”

নিহত বুলেট বৈরাগী কুমিল্লা বিবিরবাজার স্থলবন্দর কাস্টমসে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এরই মধ্যে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। 

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বুলেটের একমাত্র সন্তান অব্যয় বৈরাগীর প্রথম জন্মদিন। যে দিনে বাবার কোলে হেসেখেলে সময় কাটানোর কথা ছিল ছোট্ট অব্যয়ের, সেই দিনটিতেই পিতৃহারা সন্তানের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow