রিংকুর অলরাউন্ড নৈপুণ্যে সুপার ওভারে কলকাতার রোমাঞ্চকর জয়

অনলাইন ডেস্কঃ
Apr 27, 2026 - 12:34
রিংকুর অলরাউন্ড নৈপুণ্যে সুপার ওভারে কলকাতার রোমাঞ্চকর জয়

আইপিএলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ফের ত্রাতা হয়ে উঠলেন রিংকু সিং। দুর্দান্ত ব্যাটিং, অসাধারণ ফিল্ডিং এবং সবশেষে সুপার ওভারে বাজিমাত—সব মিলিয়ে লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে ম্যাচটি হয়ে উঠেছিল 'রিংকুময়'। আর এই অনবদ্য পারফরম্যান্সের পরই ভারতের সাবেক কিংবদন্তি বীরেন্দ্র শেবাগের এক পুরোনো মন্তব্যের দারুণ এক পাল্টা জবাব দিয়েছেন কলকাতার এই বাঁহাতি তারকা ব্যাটার।

২০২৩ আইপিএলে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে গুজরাট টাইটান্সের পেসার যশ দয়ালের শেষ ওভারে টানা পাঁচ ছক্কা হাঁকিয়ে কেকেআরকে অবিশ্বাস্য এক জয় এনে দিয়েছিলেন রিংকু। সেই অতিমানবিক ইনিংসের পর ক্রিকবাজে বীরেন্দ্র শেবাগ বলেছিলেন, "ক্রিকেটের ইতিহাসে এমনটা আগে কখনো ঘটেনি। রিংকু সিং আর কখনো এটা করতে পারবে না।" 

টানা পাঁচ ছক্কা হয়তো আর মারা হয়নি, তবে গত রাতে লক্ষ্ণৌর শ্রী অটল বিহারি বাজপেয়ি স্টেডিয়ামে লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের স্পিনার দিগবেশ রাঠিকে টানা চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে শেবাগের সেই মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন রিংকু। সুপার ওভারে রোমাঞ্চকর জয়ের পর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে রিংকু বলেন, "কেউ যদি পাঁচটি ছক্কা মারতে পারে, তবে বিশ্বে আরও অনেক কিছুই হতে পারে। আমি স্যারের (বীরেন্দ্র শেবাগ) মন্তব্যটি দেখেছিলাম এবং এটি আমার বেশ ভালো লেগেছিল।"

লক্ষ্ণৌর বিপক্ষে গত রাতের ম্যাচটি কেকেআরের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ৬.১ ওভারে ৩১ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে কলকাতা। ঠিক তখনই ছয় নম্বরে ক্রিজে আসেন রিংকু। খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তুলে ৫১ বলে ৭টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৮৩ রানের এক বিধ্বংসী ও অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। যেখানে দলীয় সংগ্রহ ১৫০ পার হওয়াই অসম্ভব মনে হচ্ছিল, সেখানে রিংকুর বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৫ রানের সম্মানজনক স্কোর পায় কেকেআর। 

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে রিংকুকে 'সঙ্কটমোচন' উপাধি দেওয়া যায় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি হাসিমুখে বলেন, "রিংকু নামটাই ঠিক আছে। আমি যখন নামি, তখন ৪ উইকেট পড়ে গিয়েছিল। স্কোরবোর্ড সচল রেখে কীভাবে খেলাটা শেষ পর্যন্ত টেনে নেওয়া যায়, সেটাই শুধু ভাবছিলাম। পাশাপাশি বাজে বলগুলোকে সীমানার বাইরে পাঠিয়েছি।"

শুধু ব্যাট হাতেই নয়, ফিল্ডিংয়েও বাজিমাত করেছেন রিংকু। যেখানেই বল গেছে, সেখানেই যেন উড়ে গেছেন তিনি। লং অন, লং অফ, ডিপ মিড উইকেট কিংবা স্কয়ার লেগ—সব জায়গাতেই ছিল তার সদর্প উপস্থিতি। মূল ম্যাচে ৪টি দুর্দান্ত ক্যাচ নেওয়ার পর সুপার ওভারেও লক্ষ্ণৌর ব্যাটার এইডেন মার্করামের গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচটি লুফে নেন তিনি। 

সুপার ওভারে সুনীল নারাইনের জাদুকরী বোলিংয়ে লক্ষ্ণৌ মাত্র ১ রানে গুটিয়ে যায়। জবাবে লক্ষ্ণৌর পেসার প্রিন্স যাদবকে কভার দিয়ে চার মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন রিংকুই। এমন অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরার পুরস্কার ওঠে তার হাতে। ফিল্ডিং নিয়ে তিনি বলেন, "আমি একজন ফিট ক্রিকেটার এবং ছোটবেলা থেকেই ফিল্ডিং করতে খুব ভালোবাসি।"

সুপার ওভারের এই রোমাঞ্চকর জয়ের পরও পয়েন্ট টেবিলের অষ্টম স্থানেই রয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। ৮ ম্যাচ খেলে তাদের জয় মাত্র ২টিতে, হার ৫টি এবং ১টি ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছে। অন্যদিকে, ৭ ম্যাচে অপরাজিত থেকে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে উড়ছে পাঞ্জাব কিংস। আর কেকেআরের কাছে হেরে টানা পাঁচ পরাজয়ের স্বাদ পাওয়া লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টস নেমে গেছে পয়েন্ট টেবিলের একেবারে তলানিতে। ৮ ম্যাচে ২ জয় ও ৬ হারে তাদের পয়েন্ট মাত্র ৪।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow