রিসোর্টে আগুনে ১০ মরদেহ উদ্ধার, হদিস মিলছে না একই পরিবারের আরও ৪ জনের

অনলাইন ডেস্কঃ
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২:১৩ পিএম
শেয়ার করুন:
রিসোর্টে আগুনে ১০ মরদেহ উদ্ধার, হদিস মিলছে না একই পরিবারের আরও ৪ জনের

কক্সবাজারের ইনানী সৈকত সংলগ্ন পাটোয়ারটেক এলাকার ‘টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে’ লাগা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই সেখানে অবস্থান করা যশোরের একই পরিবারের চার সদস্যের কোনো হদিস মিলছে না। উদ্ধারকৃত মরদেহগুলো আগুনে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিহতদের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত হতে এখন ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে।

অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ থাকা পরিবারের সদস্যরা হলেন—যশোরের মণিরামপুর উপজেলার বাসিন্দা নাহিদুর রহমান (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬) এবং তাঁদের দুই শিশুকন্যা রুজাইনা ইনায়া (৭) ও সুনাইনা ইহানা (৩)। নাহিদুর রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত ‘গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড’-এর একজন কর্মকর্তা এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। পরিবার নিয়ে তিনি ঢাকার মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় বসবাস করতেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ছুটি কাটাতে গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) পরিবার নিয়ে ইনানীর ওই রিসোর্টে উঠেছিলেন নাহিদুর। রোববার দুপুরে তাঁদের চেকআউট করার কথা ছিল। কিন্তু শনিবার রিসোর্টটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই তাঁদের সবকটি মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

নিখোঁজ নাহিদুরের বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স বলেন, “শুক্রবার নাহিদুর পরিবার নিয়ে কক্সবাজার যাওয়ার কথা জানিয়েছিল। শনিবার অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়েই ওর ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করি, কিন্তু কারও ফোন সচল পাচ্ছি না। গ্রামে আমাদের অসুস্থ বাবা আছেন, তাঁকে এখনো দুর্ঘটনার কথা জানাইনি। ভাইয়ের পরিবার বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে, তা নিয়ে আমরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে আছি।” স্বজনদের খোঁজে তিনি রাতেই কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন।

এদিকে, কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফিরোজ কবির জানান, উদ্ধার হওয়া ১০টি মরদেহের বিপরীতে একাধিক পরিবার দাবি নিয়ে এসেছে। কিন্তু মরদেহগুলোর মুখমণ্ডল ও শরীর মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় চেনার কোনো উপায় নেই। তাই দাবিদার পরিবারগুলোর সদস্যদের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পরই নিশ্চিত হয়ে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন জানান, শনিবার বিকেলেই তাঁদের উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে দুজন শিশুও রয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ‘টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর কোনো অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স ছিল না। এ বিষয়ে গত জুন মাসেই রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছিল। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনায়েদ জানান, রিসোর্টটির নিচতলায় রেস্তোরাঁর রান্নাঘর এবং ওপরের তলায় পর্যটকদের থাকার কক্ষ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই রান্নাঘর থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ঘটনার দিন সেখানে ১৬ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন।

এদিকে উদ্ধারকৃত ১০টি মরদেহের সম্ভাব্য পরিচয়ের একটি তালিকা তৈরি করেছে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ। এতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীসহ সাভারের এক স্কুলশিক্ষক ও তাঁর স্বজনদের নাম রয়েছে। তবে ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল ছাড়া তাঁদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। নিখোঁজ নাহিদুরের পরিবারও এই উদ্ধারকৃতদের মধ্যে রয়েছে কি না, তা ডিএনএ পরীক্ষার পরই পরিষ্কার হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।