হরমুজে মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত, ইরানে ফের হামলা শুরু যুক্তরাষ্ট্রের

অনলাইন ডেস্কঃ
১০ জুন, ২০২৬ ১১:৩৪ এএম
শেয়ার করুন:
হরমুজে মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত, ইরানে ফের হামলা শুরু যুক্তরাষ্ট্রের

হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার অভিযোগে ইরানের ওপর আবারও হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত থেকে ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে এই অভিযান শুরু করা হয়। সেন্টকম এই হামলাকে "অযৌক্তিক ইরানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি আনুপাতিক জবাব" হিসেবে বর্ণনা করেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই হামলাগুলো মূলত ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ও রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও পারস্য উপসাগরীয় উপকূলবর্তী এলাকায়, বিশেষ করে বন্দর আব্বাস, কেশম ও সিরিকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা নিশ্চিত করেছে। তবে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ জানিয়েছে, হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার পেছনে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি তেহরান।

ড্রোন প্রযুক্তিতে রোমাঞ্চকর উদ্ধার অভিযান
সেন্টকম জানিয়েছে, ভূপাতিত হওয়া অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের দুই পাইলটকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো প্রকাশ করা হলো যে, এ ধরনের উদ্ধার অভিযানে মানববিহীন ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। 

মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের অধীনে থাকা বিশেষায়িত ইউনিট 'টাস্ক ফোর্স-৫৯' এবং ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন যৌথভাবে এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। বাহরাইনভিত্তিক এই ইউনিটটি একটি মানববিহীন জলযান (সামুদ্রিক ড্রোন) ব্যবহার করে পাইলটদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়, যেখান থেকে পরবর্তীতে তাদের হেলিকপ্টারে করে সরিয়ে নেওয়া হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, "হেলিকপ্টারে দুইজন পাইলট ছিলেন। দুজনই নিরাপদ ও সম্পূর্ণ অক্ষত আছেন। তবুও এই হামলার জবাব দিতে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য ছিল।" 

ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থান
এবিসি নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, "এটি তাদের (ইরান) কাজেরই উপযুক্ত জবাব। গত রাতে আমাদের হেলিকপ্টারটির সঙ্গে তারা যা করেছে, এটি তারই প্রতিক্রিয়া। আমি মনে করি জবাবটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও কঠোর হওয়া উচিত ছিল, এবং সেটাই করা হয়েছে।"

ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন জানান, ট্রাম্প যখন ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় হামলার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তিনি নিজে সেই নীতিনির্ধারণী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, "পরিস্থিতি এখানে এসে পৌঁছানোয় আমরা দুঃখিত, তবে আমাদের এই বিষয়টির সমাধান করতেই হতো।"

তেহরানের হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, "যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয়ের পরও যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দৃঢ়তা পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিরাপদ থাকতে চাইলে অবিলম্বে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে চলে যান।" 

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ইরানের সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থানরত বিদেশি বাহিনী যেকোনো সময় মানবিক ভুল বা সংঘর্ষের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই এই ঝুঁকি এড়ানোর একমাত্র উপায় হলো বিদেশি সামরিক বাহিনীর এ অঞ্চল ত্যাগ করা।

একই সময়ে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফও প্রতিশোধের ইঙ্গিত দিয়ে লিখেছেন, "আমরা কূটনীতির ভাষাকে প্রাধান্য দিই, তবে অন্য ভাষাগুলোও আমরা খুব ভালোভাবেই জানি। আপনারা যদি নিজেদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন, তবে আমরা আমাদের সবচেয়ে দক্ষ ভাষায় কথা বলব।"

হুমকিতে শান্তি আলোচনা
সম্প্রতি এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েল ও ইরান উভয় পক্ষই সাময়িকভাবে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ বন্ধ রেখেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। হামলার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেও সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছিলেন, "আমরা চুক্তির একেবারে শেষ পর্যায়ে আছি। আর দুই বা তিন দিন সময় লাগতে পারে, যার পর হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে যাবে।" 

তবে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলা এবং হরমুজ প্রণালির এই নতুন উত্তেজনা দুই দেশের মধ্যকার চলমান শান্তি আলোচনাকে আবারও গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।