ব্যাংকিং খাতের ৫ লাখ কোটি টাকা চুরি হয়ে গেছে : গভর্নর

অনলাইন ডেস্কঃ
May 24, 2026 - 14:11
ব্যাংকিং খাতের ৫ লাখ কোটি টাকা চুরি হয়ে গেছে : গভর্নর

দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকা ‘চুরি’ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান [১.৩.৫, ১.৩.৬]। যাকে ভদ্র বা মার্জিত ভাষায় ‘খেলাপি ঋণ’ বলা হচ্ছে, আসলে তার বড় একটি অংশই মূলত চুরি [১.১.৫, ১.৩.৫]। এই চুরি হওয়া অর্থের কোনো জামানত নেই এবং এর অধিকাংশ টাকাই দেশের বাইরে পাচার হয়ে গেছে [১.১.৫, ১.৩.৫]।

গতকাল শনিবার (২৩ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন [১.১.৫, ১.৩.৮]। চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চতুর্দশ গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল মোস্তাকুর রহমানের প্রথম সংবাদ সম্মেলন [১.১.৪, ১.৩.৫]। 

ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা, বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় সচল করা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এই সংবাদ সম্মেলন থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন গভর্নর [১.১.৫, ১.৩.৮]। এ সময় তিনি দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের রূপরেখা তুলে ধরেন [১.১.৭, ১.৩.৫]।

আর্থিক খাতের সংকট ও অর্থ পাচার
দেশের আর্থিক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, "আমাদের আর্থিক খাত বর্তমানে বেশ চাপের মধ্যে রয়েছে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ যেমন অনেক বেড়ে গেছে, তেমনি দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারও হয়ে গেছে। এর ফলে আমানতকারীদের মধ্যে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, আমরা তা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি [১.১.৭, ১.৩.৫]।" 

পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনার বিষয়ে তিনি বলেন, "পাচার করা টাকা উদ্ধার করা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া [১.১.৭, ১.৩.৫]। তবে এই অর্থ ফেরত আনাকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি [১.১.৭, ১.৩.৫]।"

খেলাপি ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত জামানত না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, "যিনি ১০০ টাকা ঋণ নিয়েছেন, তার কাছে কিন্তু এখন ১০০ টাকা নেই [১.১.৭, ১.৩.৫]। এই টাকা কীভাবে আদায় করা যায়, আমরা এখন তা নিয়ে কাজ করছি [১.১.৭, ১.৩.৫]।"

অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা
গভর্নর আশা প্রকাশ করেন, ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে [১.১.৭, ১.৩.৫]। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বাড়ার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াবে [১.১.৭, ১.৩.৫]।

অতীতের প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর অপব্যবহার ও দুর্বলতার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, "অতীতের অভিজ্ঞতা যে আমাদের খুব একটা ভালো নয়, তা সত্যি [১.১.৭, ১.৩.৫]। তবে এবার আমরা যথেষ্ট আশাবাদী [১.১.৭, ১.৩.৫]। এই প্যাকেজটি চূড়ান্ত করার আগে আমরা দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগ, ব্যবসায়ী নেতা ও ক্ষুদ্রঋণ খাতের অংশীজনদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছি [১.১.৭, ১.৩.৫]। অতীতের ভুলত্রুটি ও লুপহোলগুলো চিহ্নিত করে পুরো প্যাকেজটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে আগের মতো খারাপ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে না হয় [১.১.৭, ১.৩.৫]। এটি সঠিকভাবে বাস্তবায়নে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে [১.১.৭, ১.৩.৫]।"

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow