'শেখ মুজিব ফারাক্কা চালুর অনুমতি দেওয়ার পরই দেশের ক্ষতির প্রক্রিয়া শুরু হয়’: মির্জা ফখরুল

অনলাইন ডেস্কঃ
May 16, 2026 - 18:41
'শেখ মুজিব ফারাক্কা চালুর অনুমতি দেওয়ার পরই দেশের ক্ষতির প্রক্রিয়া শুরু হয়’: মির্জা ফখরুল

১৯৭৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান ফারাক্কা প্রকল্প চালুর অনুমতি দেওয়ার মাধ্যমেই বাংলাদেশের অপূরণীয় ক্ষতির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি মন্তব্য করেন, পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মেয়াদে চুক্তি হলেও সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান আজও সম্ভব হয়নি।

শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মজলুম জননেতার আপসহীন সংগ্রাম
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “মাওলানা ভাসানী সারাজীবন সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি কখনো ক্ষমতার মোহে মাথা নত করেননি। ফারাক্কা লংমার্চের মাধ্যমে তিনি দেশের মানুষকে সংগঠিত করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক বিশাল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।”

ফারাক্কার প্রভাবে বিপন্ন জনপদ
বিএনপি মহাসচিব উল্লেখ করেন, ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের ফলে দেশের প্রায় এক কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি উৎপাদন এবং জীববৈচিত্র্য চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই বাস্তবতা অনুধাবন করেই মাওলানা ভাসানী রাজপথে নেমেছিলেন। পরবর্তীতে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিষয়টি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরেন এবং একটি কার্যকর পানি চুক্তির উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

২০২৬-এর নতুন চুক্তিতে জনস্বার্থের দাবি
গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির বর্তমান মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “আগামীতে যে নতুন চুক্তি হবে, তা অবশ্যই দীর্ঘমেয়াদি হতে হবে এবং সেখানে বাংলাদেশের জনগণের ন্যায্য স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত না হলে এ দেশের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাবে।”

গঙ্গা ব্যারাজ ও জাতীয় স্বার্থ
জাতীয় স্বার্থে গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এটি একটি সাহসী ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। পাশাপাশি ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে অবিলম্বে ফারাক্কা সমস্যার সমাধান করতে হবে। অন্যথায় দুই দেশের মধ্যকার সুসম্পর্ক বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে অস্থিতিশীল করতে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকামী মানুষকে এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

সভার অন্যান্য বক্তা
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, মিজানুর রহমান মিনু এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow