রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকের ওপর হামলা, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে আনা হলো ঢাকায়
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত চিকিৎসকের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় গুরুতর আহত চিকিৎসক ডা. মো. নাসির ইসলামকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় আনা হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) দুপুর ১টায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার বিস্তারিত:
শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাত ১টার দিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। জানা যায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিলাশ খান এলাকার লাল মিয়া কাজী নামের এক হৃদরোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে স্বজনরা একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা দিয়ে রোগীকে সদর হাসপাতালেই রেখে দেন।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় গভীর রাতে লাল মিয়ার মৃত্যু হলে তার স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তারা দায়িত্বরত চিকিৎসক ও হাসপাতালের কর্মচারীদের সঙ্গে বিতণ্ডায় লিপ্ত হন। একপর্যায়ে হামলাকারীরা ডা. নাসির ইসলামকে ইট দিয়ে আঘাত করে তার মাথা থেঁতলে দেয়। এই হামলায় হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীসহ আরও অন্তত নয়জন আহত হয়েছেন।
আহতদের পরিচয়:
হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন নিরাপত্তাকর্মী সোহেল মিয়া (৩৪), আজিজুল রহমান (২৮), মোশারফ হোসেন (৪৫), জাহিদ মিয়া (৪১) এবং সাইফুল ইসলাম (৫১)।
আইনি পদক্ষেপ ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া:
খবর পেয়ে পালং মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আল আমিন নামের একজনকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
ঘটনার পর শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম, জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম এবং পুলিশ সুপার রওনক জাহান হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন।
পুলিশ সুপার রওনক জাহান বলেন, "এই হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা অপরাধীকে শনাক্ত করতে পেরেছি এবং একজনকে আটক করা হয়েছে।" জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম জানিয়েছেন, আহত চিকিৎসকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মিতু আক্তার জানান, এ ঘটনায় হাসপাতালের পক্ষ থেকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
বর্তমানে পালং মডেল থানায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই হামলার ঘটনায় স্থানীয় চিকিৎসক সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ