দহগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা: পতাকা বৈঠকে উত্তেজনা প্রশমন

অনলাইন ডেস্কঃ
May 24, 2026 - 11:40
দহগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা: পতাকা বৈঠকে উত্তেজনা প্রশমন

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম সীমান্তে শূন্যরেখায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) অবৈধভাবে খুঁটি ও বেড়া নির্মাণের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। এ নিয়ে গতকাল শনিবার (২৩ মে) ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে দেড় ঘণ্টাব্যাপী একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত ভারতের অভ্যন্তরে তিনবিঘা করিডোর সড়কের পাশে বিএসএফের সভাকক্ষে এ বৈঠকটি সম্পন্ন হয়।

উত্তেজনার সূত্রপাত
সীমান্ত সূত্র জানায়, গত শুক্রবার দহগ্রাম সীমান্তের শূন্যরেখার মাত্র ১০ থেকে ২০ গজের ভেতরে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় শ্রমিকরা জমি পরিমাপ এবং বাঁশের খুঁটি স্থাপনের কাজ শুরু করে। আন্তর্জাতিক আইন ও সীমান্ত চুক্তি লঙ্ঘন করে এই কাজ শুরু করায় বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে এতে বাধা দেয়। একপর্যায়ে উভয় বাহিনীর সদস্যরা সীমান্তে মুখোমুখি ও সতর্ক অবস্থান (ফায়ারিং পজিশন) নিলে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। 

পতাকা বৈঠকে দুই পক্ষের নেতৃত্ব
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শনিবার জরুরি ভিত্তিতে পতাকা বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পক্ষে নেতৃত্ব দেন রংপুর-৫১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান। অন্যদিকে, ভারতের পক্ষে অংশ নেন ১৭৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট ভিনোদ রেঢু এবং ৩০ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট এস নারায়ণ মিশরা।

বৈঠকের আলোচনা ও সিদ্ধান্তসমূহ
স্থাপনা নির্মাণ বিতর্ক: বৈঠকে বিএসএফ দাবি করে, শূন্যরেখা থেকে ৫০ গজের মধ্যে জমি অধিগ্রহণের উদ্দেশ্যে তারা ৩ ফুট উচ্চতার বাঁশের খুঁটি স্থাপন করছিল। এ সময় বিজিবির প্রতিরোধমূলক অবস্থানকে তারা অনাকাঙ্ক্ষিত বলে উল্লেখ করে। 
সীমান্ত চুক্তির বাধ্যবাধকতা: এর জবাবে বিজিবির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়, ১৯৭৪ সালের ঐতিহাসিক ইন্দিরা-মুজিব সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো ধরনের স্থায়ী বা অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। বিএসএফ আইন লঙ্ঘন করে খুঁটি স্থাপন করায় বিজিবি নিজেদের সীমানা রক্ষায় প্রতিরোধমূলক অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছে।
ফসলের ক্ষয়ক্ষতি ও অনুপ্রবেশ: বৈঠকে বিএসএফ অভিযোগ তোলে যে, বাংলাদেশি কিছু নাগরিক সীমান্ত পার হয়ে ভারতীয় জমির ফসল নষ্ট করছে। জবাবে বিজিবি আশ্বস্ত করে জানায়, সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি সর্বদা তৎপর। কোনো বাংলাদেশি নাগরিক যদি বেআইনিভাবে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে, তবে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভবিষ্যৎ সমন্বয়: ভবিষ্যতে সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ বা পরিমাপ শুরুর আগে উভয় বাহিনীর মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা এবং নিজ নিজ দেশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষই একমত প্রকাশ করেছে। 

শনিবারের এই পতাকা বৈঠকের পর উভয় বাহিনীর সদস্যরা সীমান্ত থেকে তাদের অতিরিক্ত অবস্থান প্রত্যাহার করে নেয় এবং দহগ্রাম সীমান্তে বর্তমানে শান্ত ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow