বোয়ালমারীতে আলোচিত সেই জব্দকৃত চাল মুয়াজ্জিনদের হাতে তুলে দিলেন সাংসদ
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত সরকারি অনুদানের সেই জব্দকৃত চাল অবশেষে মুয়াজ্জিনদের হাতেই তুলে দিয়েছেন ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা।
শনিবার (২৩ মে) উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চাল হস্তান্তর কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় পৌর এলাকার ৬৭টি মসজিদের ৬৭ জন মুয়াজ্জিনের প্রত্যেককে ১০ কেজি করে মোট ৬৭০ কেজি চাল বুঝিয়ে দেন সাংসদ।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান, পৌর সচিব মো. মনিরুজ্জামান সিকদার, সাবেক কাউন্সিলর আব্দুস সামাদ খানসহ পৌরসভার অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
**ঘটনার প্রেক্ষাপট:**
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত ২০ মে পৌর এলাকার ৬৭ জন মুয়াজ্জিনের নামে ১০ কেজি করে সরকারি চাল বরাদ্দ দেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। নিয়ম অনুযায়ী মুয়াজ্জিনদের আলাদাভাবে পৌরসভায় উপস্থিত হয়ে চাল উত্তোলনের কথা ছিল। কিন্তু তারা নিজেদের সুবিধার্থে একজন প্রতিনিধির মাধ্যমে একসঙ্গে সব চাল উত্তোলন করেন। পরবর্তীতে নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নেওয়ার জন্য চালগুলো সাবেক পৌর কাউন্সিলর আব্দুস সামাদ খানের কার্যালয়ে এনে রাখা হয়।
এরপরই এই চাল নিয়ে শুরু হয় রাজনীতি। একটি পক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক কাউন্সিলর সামাদ খানকে ‘সরকারি চাল চোর’ আখ্যা দিয়ে ব্যাপক অপপ্রচার চালাতে শুরু করে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিযান চালিয়ে চালগুলো জব্দ করেন এবং তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হেফাজতে নিয়ে যান।
এই ঘটনায় চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন মুয়াজ্জিনরা। তারা সংবাদ সম্মেলন করে অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। মুয়াজ্জিনরা জোরালো দাবি করে বলেন, জব্দকৃত চালগুলো সম্পূর্ণ তাদের বৈধ বরাদ্দের চাল, এর সঙ্গে সাবেক কাউন্সিলর সামাদ খানের কোনো সম্পৃক্ততা বা অসৎ উদ্দেশ্য নেই।
মুয়াজ্জিনদের এই যৌক্তিক দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই প্রকৃত ঘটনা যাচাই শেষে উদ্ধার হওয়া চালগুলো শনিবার তাদের হাতে সসম্মানে তুলে দেন স্থানীয় সাংসদ ও উপজেলা প্রশাসন।
What's Your Reaction?
এম এম জামান, বোয়ালমারী প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ