নগরকান্দার ডাঙ্গী ইউনিয়নে ঈদের ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ৮ নম্বর ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদে পবিত্র ঈদ উপলক্ষে অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে সরকারি ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়ম ও ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৩ মে) ইউনিয়নের অস্থায়ী কার্যালয়ে এই চাল বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে ডাঙ্গী ইউনিয়নের মোট ৫৫৫ জন কার্ডধারী অসহায় ও দুস্থ সুবিধাভোগীর মাঝে জনপ্রতি ১০ কেজি করে সরকারি চাল বরাদ্দের কথা ছিল। কিন্তু বিতরণকালে অনেক সুবিধাভোগী অভিযোগ করেন, তাদের ১০ কেজির চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কম চাল দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, কোনো সঠিক পরিমাপ ছাড়াই বালতি দিয়ে অনুমান করে চাল বিতরণ করায় এ হেরফের হচ্ছে।
চাল বিতরণকালে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না ইউপি চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালাম। এ বিষয়ে মুঠোফোনে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি দাওয়াত খেতে এক জায়গায় এসেছি। ট্যাগ অফিসারের প্রতিনিধি আছে, তারা থেকে (চাল) দিচ্ছে। তারা ১০ কেজি দেবে না ১১ কেজি দেবে তা তারাই ভালো জানে।”
চেয়ারম্যান পরিষদে উপস্থিত না থাকায় সুবিধাভোগীদের স্লিপে স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে চাল বিতরণের সময় সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য সালমা জাহানকে উপস্থিত থেকে প্রতিটি স্লিপে স্বাক্ষর করতে দেখা যায়।
পরিষদ থেকে চাল নিয়ে যাওয়ার পর শ্রীরামদিয়া গ্রামের জয়ন্তী রানী (স্বামী- পরিমল মন্ডল) নামের এক সুবিধাভোগী একটি ডিজিটাল পাল্লায় তার প্রাপ্ত চাল মেপে দেখেন। সেখানে ১০ কেজি চালের পরিবর্তে ব্যাগে মাত্র ৯ কেজি ৩৯৬ গ্রাম চাল পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে উপস্থিত ট্যাগ অফিসারের প্রতিনিধি মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “আমি প্রথমে এসে দেখেছিলাম ১০ কেজির জায়গায় ৪০০ গ্রাম চাল কম দেওয়া হচ্ছিল। পরে আমি ওজন ঠিক করে দিতে বলি। তবে মাঝখানে আমি কিছুটা সময়ের জন্য বাইরে গিয়েছিলাম, সেই সময়ে হয়তো কিছুটা অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে।”
পবিত্র ঈদ উপলক্ষে অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে সরকারের বরাদ্দকৃত এই চাল বিতরণে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং সঠিক ওজন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল।
What's Your Reaction?
মিজানুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ