ডিজিটাল যুগেও নেটওয়ার্ক ‘অন্ধকারে’ নগরকান্দা: সিগন্যালের খোঁজে খোলা মাঠে ছুটছে মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
Apr 25, 2026 - 13:58
ডিজিটাল যুগেও নেটওয়ার্ক ‘অন্ধকারে’ নগরকান্দা: সিগন্যালের খোঁজে খোলা মাঠে ছুটছে মানুষ

‎বিশ্ব যখন ফাইভ-জি প্রযুক্তির দিকে দ্রুত এগোচ্ছে, তখন ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার হাজার হাজার মানুষের কাছে একটি সাধারণ ফোন কল করাও এখন বিলাসিতার নামান্তর। ঘরের ভেতর নেটওয়ার্ক নেই, বারান্দায় দাঁড়ালে কথা কেটে যায়, আর ইন্টারনেটের জন্য ছুটতে হয় খোলা মাঠে কিংবা উঁচু ছাদে। ডিজিটাল বাংলাদেশ ও স্মার্ট নাগরিক গড়ার পথে নগরকান্দার এই নেটওয়ার্ক বিপর্যয় এখন এক বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‎সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, তালমা, কোদালিয়া, লস্করদিয়া, কাইচাইল, রামনগর, ডাঙ্গী, ফুলসুতি, পুড়াপাড়া এবং চরযশোরদী ইউনিয়নে মোবাইল নেটওয়ার্কের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। এসব ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামে স্মার্টফোন থাকলেও সিগন্যালের অভাবে সেগুলো অনেকটা খেলনায় পরিণত হয়েছে। কল ড্রপ হওয়া আর ‘নেটওয়ার্কের বাইরে আছেন’ বার্তা শুনতে শুনতে স্থানীয় গ্রাহকরা এখন অতিষ্ঠ।

‎ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ আক্ষেপ করে জানান, জরুরি অসুস্থতায় অ্যাম্বুলেন্স ডাকা কিংবা বিদেশে থাকা স্বজনদের সাথে কথা বলতে গেলেও তাদের নেটওয়ার্কের পেছনে যুদ্ধ করতে হয়। এক মিনিটের কথা শেষ করতে তিন-চারবার কল দিতে হয়। ডাটা প্যাক কিনেও ইন্টারনেটে ঢুকতে না পারায় গ্রাহকদের টাকা যেন পানিতে যাচ্ছে।

‎সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন এই প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা। অনলাইনে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়া কিংবা শিক্ষামূলক ভিডিও দেখা তাদের জন্য দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে ফ্রিল্যান্সার এবং অনলাইন ব্যবসায়ীরা ইন্টারনেটের ধীরগতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ছিটকে পড়ছেন। লস্করদিয়া ও তালমা বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, বিকাশ বা নগদে টাকা পাঠাতে গিয়ে নেটওয়ার্ক গোলযোগের কারণে প্রায়ই গ্রাহকদের সাথে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হচ্ছে।

‎অভিযোগ উঠেছে, এসব এলাকায় অপারেটরদের টাওয়ার সংখ্যা চাহিদার তুলনায় খুবই নগণ্য। আবার যেসব টাওয়ার আছে, বিদ্যুৎ চলে গেলে সেগুলোর ব্যাকআপ সার্ভিস থাকে না। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল ফোন শুধু ঘড়ি দেখার কাজে ব্যবহৃত হয়। স্থানীয়রা বারবার অভিযোগ দিলেও মোবাইল কোম্পানিগুলো শুধু যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাত দিয়ে এড়িয়ে যাচ্ছে।

‎নগরকান্দার সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত এই অবহেলিত ইউনিয়নগুলোতে নতুন শক্তিশালী টাওয়ার স্থাপন করে নিরবচ্ছিন্ন নেটওয়ার্ক ও ফোর-জি ইন্টারনেট নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় এই বিশাল জনগোষ্ঠী আধুনিক বিশ্বের যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে চিরতরে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তারা দ্রুত জেলা প্রশাসন ও বিটিআরসির হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow