জাতীয় সংসদকে জনসমস্যার সমাধান ও যুক্তির কেন্দ্রবিন্দু করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতীয় সংসদকে কেবল আনুষ্ঠানিকতার জায়গা নয়, বরং যুক্তিতর্ক ও জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ফ্যাসিবাদের নির্মমতার অবসান ঘটিয়ে জনগণের ভোটে একটি দায়বদ্ধ ও জনপ্রতিনিধিত্বশীল সংসদের যাত্রালগ্নে আবেগঘন কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের। তিনি বলেন, “অসংখ্য মানুষের কান্না ও হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের মধ্যদিয়ে আজ আমরা একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সংসদের যাত্রা শুরু করছি। যেসব মা সন্তান হারিয়েছেন, যেসব সন্তান প্রিয়জন হারিয়েছেন এবং যারা জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়েছেন, তাদের সবার অবদানের কাছে আমরা ঋণী।”
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিগত দেড় দশকের দুঃশাসনের কথা তুলে ধরে বলেন, আয়নাঘরের মতো বর্বর বন্দিশালায় যাদের বন্দি রাখা হয়েছিল, সেই সব ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, পেশাজীবী ও সর্বস্তরের মানুষের অদম্য সাহসের ফলেই দেশে গণতন্ত্র পুনরায় ফিরে এসেছে।
তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া আজীবন সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় লড়াই করে গেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে সেই গণতন্ত্রকে প্রহসনে পরিণত করে সংসদকে হাস্যরসের খোরাকে পরিণত করা হয়েছিল। আমরা সেই ধারা ভেঙে আবার কাঙ্ক্ষিত সংসদীয় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করলাম।”
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয়, তাহলে আমি সেই দলেই আছি’—এই দর্শনই বিএনপির মূল চালিকাশক্তি। ব্যক্তি বা দলের ঊর্ধ্বে দেশের মানুষের স্বার্থই আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করে একটি সমৃদ্ধ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়াই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।
তারেক রহমান আরও বলেন, “সংসদীয় গণতন্ত্রকে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার অকার্যকর করে রেখেছিল। নতুন এই সংসদ যেন জাতীয় কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়, সে জন্য আমি সব দলের নির্বাচিত সদস্যদের সহযোগিতা কামনা করি। দল-মত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু স্বাধীন, সার্বভৌম ও ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
অধিবেশনের পরিবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট জনরোষের ফলে পূর্ববর্তী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারদের আজ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না; তাদের কেউ কারাগারে, কেউ পলাতক। এই বিশেষ পরিস্থিতিতে জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাই এখন আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ।
পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী দেশ ও জনগণের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জনেই আমাদের সব প্রচেষ্টা নিবেদিত থাকবে।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ