মুন্সীগঞ্জে সাবেক এমপি মহিউদ্দিন আহমেদের জানাজা সম্পন্ন, নেতাকর্মীদের ঢল
মুন্সীগঞ্জ-১ (সিরাজদিখান–শ্রীনগর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সিরাজদিখান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদের জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষের ঢল নেমেছে। বুধবার (১১ মার্চ) বেলা ১১টায় সিরাজদিখান উপজেলার মালখানগর কলেজ মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজা শেষে তাকে উপজেলার গোরাপিপাড়া কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়।
জানাজায় বিএনপি, জাতীয় পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল কুদ্দুস ধীরন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য আলী আনসার মোল্লা, সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান, শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ মোমিন আলী, সিরাজদিখান উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন মৃধা, সিরাজদিখান উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি হাকিম হাওলাদার, বাংলাদেশের বিকল্পযুবধারার কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সচিব উপাধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান বাচ্চুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এদিকে মহিউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মো. আব্দুল্লাহ। তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। পারিবারিক সূত্র তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্থানীয় রাজনীতি ও জনপ্রতিনিধিত্বের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি মালখানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে টানা পাঁচবার নির্বাচিত হন এবং সিরাজদিখান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনবার দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তিনি জেলার একজন সক্রিয় সংগঠক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সিরাজদিখান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক। রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।
তার মৃত্যুতে মুন্সীগঞ্জের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
What's Your Reaction?
এমএ কাইয়ুম মাইজভান্ডারি, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, মুন্সীগঞ্জঃ