মাদকবিরোধী সমাবেশের জেরে নোয়াখালীতে ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ

রিপন মজুমদার, জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালিঃ
১০ জুন, ২০২৬ ১০:১৩ এএম
শেয়ার করুন:
মাদকবিরোধী সমাবেশের জেরে নোয়াখালীতে ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মাদকবিরোধী সমাবেশ আয়োজনকে কেন্দ্র করে এক ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার (৮ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের অলিপুর গ্রামের বড় বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, স্থানীয় এক যুবদল নেতাসহ কয়েকজন মাদক কারবারি এই হামলা চালিয়েছেন। 

ভুক্তভোগী ফখরুল ইসলাম (৩২) সদর উপজেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি এবং অশ্বদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি।

ফখরুল ইসলামের অভিযোগ, গত শনিবার তাঁর নেতৃত্বে উপজেলার ডাক্তারহাট ও বেল্লা কোটরা এলাকায় একটি মাদকবিরোধী মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে তিনি মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তাঁদের সংশোধনের আহ্বান জানান, অন্যথায় তাঁদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এতে স্থানীয় মাদক কারবারিরা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

তিনি আরও জানান, সোমবার বিকেলে তাঁর দুবাই প্রবাসী মামা মো. ইয়াসিন সোহেল ডাক্তারহাট বাজার এলাকা থেকে মাটি কিনে বাড়ি ভরাটের কাজ করছিলেন। মাদকবিরোধী সমাবেশের জেরে স্থানীয় কয়েকজন ওই কাজে বাধা সৃষ্টি করে। বিষয়টি জানতে ঘটনাস্থলে গেলে ফখরুল হামলার শিকার হন। তাঁর দাবি, স্থানীয় যুবদল নেতা শরীফ উল্যাহ সুমনের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চাঁদা দাবি করে।

ছাত্রদল নেতার অভিযোগ, এই ঘটনার জের ধরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে শরীফ উল্যাহ সুমনের নেতৃত্বে রবিউল হোসেন রুবেল (৩৩), মো. জুয়েল (৩৫), মো. কালা (৩২), দুলাল ও মো. নাছিরসহ একদল লোক তাঁর বাড়িতে আকস্মিক হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মাকে মারধর করে, বসতঘরের জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর করে এবং ঘরের ভেতরের মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী ফখরুলের মা মমতাজ বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে আমাকে ও আমার স্বামীকে মারধর করেছে। ঘরের জানালার সব থাই গ্লাস ভেঙে ফেলেছে। আমার ছেলের রাজনীতি করা কি অপরাধ? আমরা আওয়ামী লীগের আমলেও নির্যাতিত হয়েছি, এখন বিএনপির আমলেও নির্যাতনের শিকার হচ্ছি।"

তবে মাদক ব্যবসা ও পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অশ্বদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি শরীফ উল্যাহ সুমন। তিনি বলেন, "ফখরুল ও রুবেলের সঙ্গে আমি যৌথভাবে মাটির ব্যবসা করি। ফখরুল আমাদের না জানিয়ে তাঁর মামার কাছে মাটি বিক্রি করে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আমাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে ফখরুল লোকজন নিয়ে এসে প্রথমে আমার প্রজেক্টে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। রাতে আমি তাঁর বাড়িতে গেলে সঙ্গে থাকা কয়েকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ইট ছুড়ে জানালার কাচ ভেঙে দেয়। তবে তাঁর বাবা-মাকে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।"

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, "হামলার বিষয়টি আমরা শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।