এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
ভারতে অবস্থানরত ২ হাজার ৮৬০ জন কথিত ‘বাংলাদেশি নাগরিকের’ পরিচয় নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের দাবি, বর্তমানে অবৈধভাবে অবস্থান করা এই ব্যক্তিরা বাংলাদেশের নাগরিক। তাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত হওয়া মাত্রই দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম *দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস*-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামসহ বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন ভারতের রাজ্যগুলোতে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার প্রেক্ষাপটে এই বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে অভিযুক্ত শত শত মানুষ সীমান্ত এলাকায় জড়ো হয়েছেন, যা দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য
গত শুক্রবার এক সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা বাংলাদেশকে ২ হাজার ৮৬০ জনেরও বেশি মানুষের নাগরিকত্ব যাচাই করার অনুরোধ জানিয়েছি। আমাদের বিশ্বাস, তারা বাংলাদেশি নাগরিক এবং বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো আমরা কোনো চূড়ান্ত জবাব পাইনি।”
তিনি আরও জানান, ভারতে অবৈধভাবে অবস্থানকারী যেকোনো বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ভারতের নিজস্ব আইন রয়েছে এবং সেই আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। রণধীর জয়সওয়াল উল্লেখ করেন, “অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের ফেরত পাঠানোর জন্য ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা রয়েছে। এই প্রক্রিয়া অনুযায়ী ভারত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য বাংলাদেশের কাছে পাঠায় এবং বাংলাদেশ তাদের নাগরিকত্ব যাচাই করার পর প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। আমরা আশা করি, ঝুলে থাকা অনুরোধগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি হবে, যাতে বহিষ্কার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়।”
আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন এবং উদ্বেগ
*দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস*-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে সম্প্রতি রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। নবনির্বাচিত বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ (শনাক্তকরণ, তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং ফেরত পাঠানো) নীতি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন।
ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে প্রায় ৪০০ অনথিভুক্ত অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পরিচালিত ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) কার্যক্রমের কারণে স্থানীয় অনথিভুক্ত বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে অনেকেই সীমান্ত এলাকার দিকে ধাবিত হচ্ছেন।
ঢাকার অবস্থান ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা
চলতি বছরের মে মাসের শুরুতে ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইস্যুটি ঢাকার কাছে উত্থাপন করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্ব পায়।
নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছিলেন, সীমান্তবর্তী রাজ্যটিতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের জেরে যদি কোনো প্রকার ‘পুশ-ইন’ বা জোরপূর্বক মানুষকে সীমান্ত পার করার চেষ্টা করা হয়, তবে বাংলাদেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ভারতীয় কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, অবৈধ অভিবাসনের বিষয়টি দুই দেশের স্বরাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকসহ নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় আলোচনাগুলোতে গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পায়। অবৈধ সীমান্ত পারাপার বন্ধ, সীমান্তে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা হ্রাস এবং দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে ‘কো-অর্ডিনেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান’ (সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা) অনুযায়ী কাজ চলছে। একই সঙ্গে সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে দুই দেশ যৌথভাবে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।
পিরোজপুর | ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
পিরোজপুর | ২৬ এপ্রিল, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
জাতীয় | ৭ জুন, ২০২৬
জাতীয় | ৭ জুন, ২০২৬
জাতীয় | ৭ জুন, ২০২৬
জাতীয় | ৭ জুন, ২০২৬
জাতীয় | ৭ জুন, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।