বিসিবির আরেকটি প্রশ্নবিদ্ধ, বিতর্কিত নির্বাচন আজ

অনলাইন ডেস্কঃ
৭ জুন, ২০২৬ ১:২৫ পিএম
শেয়ার করুন:
বিসিবির আরেকটি প্রশ্নবিদ্ধ, বিতর্কিত নির্বাচন আজ

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সাবেক ক্রিকেটার তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন অ্যাডহক কমিটির অধীনে হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে ঘিরে শুরুতে ক্রিকেটপ্রেমী ও সংগঠকদের মাঝে যে ব্যাপক প্রত্যাশা ও আগ্রহ তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত এটি আরও একটি বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ আয়োজনে রূপ নিতে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নৈতিকতার প্রশ্ন ও স্বার্থের সংঘাত
নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটির ৭ জনই এবার সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, যার মধ্যে স্বয়ং কমিটির প্রধান তামিম ইকবালও রয়েছেন। যদিও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে এতে কোনো বাধা নেই, তবে নির্বাচন আয়োজকদের নিজেদেরই প্রার্থী হওয়া নৈতিকতার দিক থেকে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলামের সময়কার অভিজ্ঞতার কথা টেনে অনেকেই একে দেখছেন স্বার্থের সংঘাত হিসেবে। 

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় ও নির্বাচনী সমীকরণ
নির্বাচন শুরু হওয়ার আগেই অধিকাংশ পদের ফলাফল নির্ধারিত হয়ে যাওয়ায় ভোটাভুটির আমেজ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেকটাই স্তিমিত হয়ে পড়েছে।

ক্যাটাগরি-১ (জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা): এই ক্যাটাগরিতে ১০টি পরিচালক পদের মধ্যে ৭ জনই ইতিমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়ে গেছেন। আজ ভোটগ্রহণ হবে কেবল খুলনার দুটি এবং বরিশালের একটি পদের জন্য, যা মূলত একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। 
ক্যাটাগরি-৩ (সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয়): এই বিভাগের একমাত্র পরিচালক পদটিতেও কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই প্রার্থীর জয় নিশ্চিত হয়ে গেছে।
ক্যাটাগরি-২ (ঢাকার ক্লাবসমূহ): এখানে ১২টি পরিচালক পদের বিপরীতে প্রার্থীর সংখ্যা ১৮ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। তবে অভিযোগ রয়েছে, ভোট পড়ার আগেই একধরনের 'ইলেকশন মেকানিজম' বা নির্বাচনী মারপ্যাঁচে প্রায় ৭-৮ জনের জয় নিশ্চিত করে রাখা হয়েছে।

রাজনৈতিক ও পারিবারিক প্রভাবের অভিযোগ
ক্রিকেটীয় দক্ষতার চেয়ে রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি ও পারিবারিক পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে বোর্ডে আসার অভিযোগ উঠেছে অনেকের বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার ‘এনসিপি’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি নির্বাচনের প্রার্থী এবং বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কাউন্সিলরসহ নির্বাচনসংশ্লিষ্ট ৭৫ জনের পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ করা হয়। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথ সংকুচিত করার বিষয়টির তীব্র সমালোচনা করা হয় সেখানে। 

এর পাশাপাশি কাউন্সিলর মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়েও অসচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে, যা পরবর্তীতে হাইকোর্টের রিট পর্যন্ত গড়িয়েছে। জেলা ও ক্রীড়া সংস্থাগুলো থেকে ভোটার নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় কোনো স্পষ্ট নীতি বা স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তামিম ইকবালের বক্তব্য
বিতর্ক ও সমালোচনার জবাবে অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল গত পরশু রাতে এক অনুষ্ঠানে সবাইকে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক পরিচয় দূরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 
> *"আমরা যারাই নির্বাচিত হই না কেন, যখনই মিরপুর স্টেডিয়ামে ঢুকবেন, ব্যক্তিগত পরিচয় বাইরে রেখে ভেতরে আসবেন। যে মুহূর্তে আপনারা ওই আসনে বসবেন, তখন থেকে শুধু বাংলাদেশ ক্রিকেটকে সেবা করবেন। ব্যক্তিগত পরিচয় কী, এটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আপনাদের চিন্তাভাবনা কী, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।"*

উপসংহার
ক্রিকেটপ্রেমীদের আশা ছিল তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন কমিটি দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে একটি যুগান্তকারী ও স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দেবে। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ের আগেই পর্দার আড়ালের রাজনৈতিক সমীকরণ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব পুরো নির্বাচনকে একপেশে ও বিতর্কিত করে তুলেছে। ফলে আজকের নির্বাচনটি নিছক একটি আনুষ্ঠানিকতায় রূপ নিয়েছে বলেই মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকেরা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।