এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রতিবাদে আয়োজিত গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের মানববন্ধনে ব্যাপক উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের এই হামলায় অন্তত ৫০ জন গুলিবিদ্ধসহ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ‘ইসলামী ব্যাংক ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদ’।
সোমবার (১ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি এই দাবি জানায়।
বিজ্ঞপ্তি ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হাজারো গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে জড়ো হয়ে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন শুরু করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয়। সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ব্যাপক পুলিশি বাধার পরও আন্দোলনকারীরা পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়ে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেন।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি হলো— সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল করা এবং ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানকে স্বপদে পুনর্বহাল করা।
ইসলামী ব্যাংক ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, "গত ২৪ মে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে খুরশিদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। এই নিয়োগের পেছনে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ রয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পুনরায় ব্যাংকে পুনর্বাসন করা।"
নেতৃত্বের সংকটের পাশাপাশি ব্যাংকের বর্তমান আর্থিক দুরবস্থা নিয়েও চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন গ্রাহকরা। অধ্যাপক নুর নবী মানিক জানান, ইসলামী ব্যাংক বর্তমানে তীব্র তারল্য সংকটে ভুগছে। সাধারণ গ্রাহকরা চেক বা এটিএমের মাধ্যমে নিজেদের জমানো টাকা তুলতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য তিনি অবিলম্বে নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিল, এস আলম গ্রুপ-সংশ্লিষ্টদের অপসারণ এবং ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ প্রকৃত মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।