দারিদ্র্য জয় করে স্বপ্ন পূরণের পথে অদম্য শারমিন: প্রয়োজন শুধু একটুখানি সহযোগিতা
অভাবের সংসারে দারিদ্র্যের কষাঘাত যেখানে নিত্যদিনের সঙ্গী, সেখানে এক ফালি আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছেন নেত্রকোনার মেধাবী শিক্ষার্থী স্বপনা আক্তার শারমিন। সকল প্রতিকূলতা ও আর্থিক অনটনকে পেছনে ফেলে উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে চলা শারমিন এখন নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
শারমিনের বাড়ি বারহাট্টা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের মান্দারতলা গ্রামে। তার বাবা একজন অতি সাধারণ কৃষক। হাড়ভাঙা খাটুনি আর সামান্য আয়ে তিন সন্তানের পড়াশোনার খরচ চালানো ছিল তার জন্য এক পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। কিন্তু বাবার সেই ত্যাগের মর্যাদা দিয়েছেন শারমিন। বারহাট্টার চাল্লিশ কাহানিয়া হাফিজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে তিনি উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী হিসেবে পুরস্কৃত হন। এরপর এইচএসসি পরীক্ষায়ও সাফল্যের ধারা বজায় রেখে অর্জন করেন জিপিএ-৫।
তবে শারমিনের এই পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। অসুস্থতা এবং চরম অর্থনৈতিক সংকটের কারণে প্রথমবার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি তিনি। কিন্তু অদম্য এই তরুণী হার মানতে শেখেননি। তীব্র সংকল্প আর কঠোর পরিশ্রমে এবার জিএসটি (GST) গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ৩২৪৭তম স্থান অর্জন করে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।
বর্তমান মেধা তালিকা অনুযায়ী, শারমিন ময়মনসিংহের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, নেত্রকোনা শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় অথবা জামালপুরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো কোনো বিষয়ে পড়ার সুযোগ পাবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
শারমিনের স্বপ্ন অনেক বড়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেশের সেবা করতে চান এবং দরিদ্র বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে চান। নিজের মেধা ও শ্রম দিয়ে পরিবারের অভাব দূর করার পাশাপাশি আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করাই তার মূল লক্ষ্য।
মান্দারতলা গ্রামের এই মেয়েটি আজ শুধু তার পরিবারের নয়, বরং পুরো এলাকার আগামী প্রজন্মের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। তবে এই অদম্য মেধাবীর স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেওয়ার পথে এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রয়োজনীয় অর্থের অভাব। উচ্চশিক্ষার খরচ ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের জন্য তিনি সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
What's Your Reaction?
জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনাঃ