আত্রাইয়ে বোরো ফসল নির্বিঘ্নে ঘরে তুলতে কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ তালুকদারের সমন্বিত তৎপরতা
নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় এখন বইছে সোনালী ধানের সুবাস। দিগন্তজোড়া মাঠজুড়ে দোল খাচ্ছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন। আর মাত্র কয়েকদিন, তারপরই শুরু হবে পুরোদমে ধান মাড়াইয়ের ভরা উৎসব। তবে এই আনন্দের মাঝেও বিষাদের সুর হয়ে বেজে উঠছে প্রকৃতির অনিশ্চয়তা। কালবৈশাখীর কালো মেঘ মাথায় নিয়ে আত্রাইয়ের কৃষকদের কাছে প্রতিটি মুহূর্ত এখন এক একটি লটারি। একদিন আগে ধান ঘরে তুলতে পারলে নিশ্চিত 'বাম্পার ফলন' আর একদিনের দেরি মানেই সব হারানোর শঙ্কা।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে আত্রাইয়ের ৮টি ইউনিয়নে ১৮ হাজার ৭১০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ১৮ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এছাড়া ভুট্টা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৫,০১০ হেক্টর থাকলেও অর্জিত হয়েছে ৫,১১৫ হেক্টর। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে উপজেলায় বর্তমানে ৮,১৪০টি ডিজেল চালিত সেচ যন্ত্র এবং ৩৭২০টি ধান মাড়াই যন্ত্র (পাওয়ার থ্রেসার) সচল রয়েছে।
ধান কাটা ও মাড়াইয়ের এই সংকটময় সময়ে কৃষকদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা ছিল শ্যালো ইঞ্জিন চালিত যন্ত্রপাতির নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিয়ে। কৃষকদের সেই দুশ্চিন্তা দূর করতে উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বিশেষ ‘ফুয়েল কার্ড’ (জ্বালানি তেল কার্ড) বিতরণ করা হচ্ছে। সরকারি এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো কৃষি যান্ত্রিকীকরণকে ত্বরান্বিত করা এবং কৃষকদের জ্বালানি তেল প্রাপ্তি কিছুটা সহজলভ্য করা। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড়-সব পর্যায়ের কৃষকগণ প্রাপ্যতা অনুযায়ী প্রত্যয়ন পাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে উপজেলায় ১৩৫০টি কৃষক জ্বালানি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা অনুমোদিত ফিলিং স্টেশন থেকে সেচ পাম্প, ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার ও ফসল মাড়াই যন্ত্রের জন্য সহজে এবং সরকারি নির্ধারিত ন্যায্যমূল্যে ডিজেল ও পেট্রোল সংগ্রহ করতে পারছেন । এর ফলে মাঠপর্যায়ে কৃষি উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাচ্ছে।
এছাড়া ফুয়েল কার্ডের সঠিক ব্যবহারের ফলে জ্বালানি তেলের অপচয় ও অনিয়ম রোধ করে প্রকৃত কৃষকদের কাছে নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়াটি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ প্রসেনজিৎ তালুকদার-এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে অফিসে বেশ কিছু পদে জনবল সংকট থাকলেও সে প্রভাব পড়তে দেননি সংশ্লিষ্টরা। মাঠ পর্যায়ে জরিপ চালিয়ে কৃষকদের সেবা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর তারা।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ প্রসেনজিৎ তালুকদার কৃষকদের আশ্বস্ত করে বলেন, বোরো ধান কাটা ও মাড়াইয়ের এই সময়টি কৃষকের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। আমরা জানি, সঠিক সময়ে জ্বালানি না পেলে কৃষকের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। তাই এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।
তিনি আরও যোগ করেন, আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে সজাগ রয়েছেন। ধান কাটা পুরোদমে শুরু হওয়ার আগেই আমরা প্রতিটি পাওয়ার থ্রেসার ও কৃষি সংক্রান্ত পরিবহন যানের জন্য সুশৃঙ্খল তেল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সক্ষম হব। কৃষক যেন নিরাপদে তাদের ফসল ঘরে তুলতে পারে, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি এড়াতে আত্রাইয়ের কৃষি বিভাগ ও কৃষকদের এই সমন্বিত প্রচেষ্টা সফল হলে, এ বছর বাম্পার ফলন ঘরে তুলবে উপজেলার হাজারো কৃষক পরিবার। এখন আত্রাইয়ের আকাশে শুধু সময়ের অপেক্ষা আর মেঘমুক্ত সোনালী রোদের প্রত্যাশা।
What's Your Reaction?
আব্দুল মজিদ মল্লিক, জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁঃ