নোয়াখালীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও বিদ্যুৎ সংকটে জেলা জামায়াতের উদ্বেগ, প্রশাসনের পদক্ষেপ দাবি

রিপন মজুমদার, জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালিঃ
৮ জুন, ২০২৬ ১:১১ পিএম
শেয়ার করুন:
নোয়াখালীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও বিদ্যুৎ সংকটে জেলা জামায়াতের উদ্বেগ, প্রশাসনের পদক্ষেপ দাবি

নোয়াখালী জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, ডাকাতি ও তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নোয়াখালী জেলা শাখা। এসব সমস্যা সমাধান করে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের নিকট অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। 

গত রবিবার সন্ধ্যায় জেলা জামায়াত কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা কর্মপরিষদের এক সভায় এই দাবি জানানো হয়। কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমীর ইসহাক খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা অঞ্চল টিম ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য এ.কে.এম. শামসুদ্দিন।

সভায় অভিযোগ করা হয়, সম্প্রতি নোয়াখালী সদর উপজেলায় বিএনপির একটি মিছিলে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে। এর আগেও জেলায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে মিছিল করা হলেও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের প্রতিরোধ বা আইনি তৎপরতা দেখা যায়নি বলে সভায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করা হয়। ওই হামলায় ১২ জন আহত হন এবং ৬টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও লুট করা হয়। সভার পক্ষ থেকে আহতদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে তাদের সুচিকিৎসার দাবি জানানো হয়।

জেলায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে সভায় বক্তারা বলেন, পবিত্র ঈদের পরপরই জেলার বিভিন্ন স্থানে কিশোর গ্যাংয়ের নৃশংসতায় ৩ জন নিহত হয়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত ও দৌরাত্ম্য চরম আকার ধারণ করায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া শহরের ফকিরপুর ও লক্ষিণারায়ণপুর এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ের চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনাগুলো জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভঙ্গুর দশাকেই ফুটিয়ে তোলে।

বিদ্যুৎ খাতের তীব্র সংকটের কথা উল্লেখ করে জামায়াত নেতারা বলেন, বর্তমানে নোয়াখালী জেলা শহরে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ থাকে, তার তুলনায় গ্রামীণ অঞ্চলের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন ও করুণ। গ্রামীণ এলাকাগুলোতে দৈনিক ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে, যা জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও ব্যবসাবাণিজ্যকে অচল করে দিয়েছে।

সভায় জেলায় প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগামহীন দাম বাড়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় মধ্য ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো চরম অর্থকষ্টে দিনাতিপাত করছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।

পরিশেষে, নোয়াখালী জেলা কর্মপরিষদের পক্ষ থেকে জেলার সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে অনতিবিলম্বে দৃশ্যমান ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানানো হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।