এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
ফরিদপুরের সালথা ও বোয়ালমারী উপজেলার সীমান্তবর্তী ময়েনদিয়া বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের জেরে টানা দুই মাস ধরে শতাধিক ব্যবসায়ীর দোকান বন্ধ রয়েছে। ফলে সিমেন্ট, কাপড়সহ বিভিন্ন পণ্য নষ্ট হয়ে কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট অনেক মানুষ। ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে সালথার খারদিয়া গ্রাম ও বোয়ালমারীর ময়েনদিয়া বাজার এলাকায় গিয়ে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজারটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বোয়ালমারীর পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নানের সঙ্গে সালথার যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া গ্রামের বিএনপি-সমর্থক টুলু মিয়া ও জিহাদ মিয়ার বিরোধ চলে আসছে।
স্থানীয়রা জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাজারটি নিয়ন্ত্রণ করতেন মান্নান চেয়ারম্যান। সরকার পরিবর্তনের পর প্রতিপক্ষের লোকজন তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করলে তিনি ও তার সমর্থকেরা এলাকা ছাড়েন। পরে বাজারের নিয়ন্ত্রণ নেন টুলু মিয়া ও জিহাদ মিয়া। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মান্নান চেয়ারম্যান এলাকায় ফিরে এসে বাজারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকটি দোকানে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
সংঘর্ষের পর থেকেই সালথার খারদিয়া গ্রামের শতাধিক ব্যবসায়ী ময়েনদিয়া বাজারে থাকা তাদের দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, বাজারে গেলেই প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা ও হুমকি দিচ্ছে। ফলে টানা দুই মাস দোকান বন্ধ থাকায় দোকানে থাকা সিমেন্ট, কাপড়সহ বিভিন্ন পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
ময়েনদিয়া বাজারের মিনহাজ ট্রেডার্সের মালিক মো. ফায়েক বলেন, দুই মাস ধরে দোকানে যেতে পারছি না। এতে সিমেন্ট নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শুধু আমি নই, আমার মতো শতাধিক ব্যবসায়ী ভয়ে বাজারে যেতে পারছেন না। আমরা ব্যবসায়ী, আমাদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই। তারপরও দোকান খুলতে দেওয়া হচ্ছে না।
কাপড় ব্যবসায়ী আকরাম শিকদার বলেন, সংঘর্ষ হয়েছে দুই পক্ষের মধ্যে, কিন্তু ব্যবসায়ীদের কী দোষ? দোকান খুলতে না পেরে আমরা পথে বসে যাচ্ছি। কোনো ব্যবসায়ী বাজারে গেলেও তাকে মারধর করা হয়।
খারদিয়া গ্রামের ভ্যানচালক ছায়েদুল মুন্সী অভিযোগ করেন, কয়েকদিন আগে ভাড়া নিয়ে বাজারে গেলে তাকে মারধর করে আর না আসার হুমকি দেওয়া হয়।
ময়েনদিয়া বাজারের ইজারাদার টুলু মিয়া বলেন, সংঘর্ষের পর থেকে তিনি বাজারের ইজারার টাকা তুলতে পারছেন না। তার লোকজন বাজারে গেলেই ভয়ভীতি দেখিয়ে বের করে দেওয়া হচ্ছে।
তবে বাজারের আরেক ব্যবসায়ী শাহিন মিয়া বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি চাঁদাবাজির স্বার্থে বাজারের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে বর্তমানে বাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান কারাগারে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তার স্বজনদের দাবি, বাজারে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য চলছে এবং অভিযোগগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ময়েনদিয়া বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলমান। ১৪ ফেব্রুয়ারির সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আরও কয়েকজনকে খোঁজা হচ্ছে। তিনি বলেন, সাধারণ ব্যবসায়ীরা যাতে নির্বিঘ্নে বাজারে ব্যবসা করতে পারেন, সে নিশ্চয়তা দিতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। কেউ কাউকে হুমকি দিলে বা চলাচলে বাধা দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোয়াখালী | ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
রাজবাড়ী | ২৭ আগস্ট, ২০২৬
বরিশাল | ২৭ আগস্ট, ২০২৬
নওগাঁ | ২৭ আগস্ট, ২০২৬
আন্তর্জাতিক | ২৭ আগস্ট, ২০২৬
কুষ্টিয়া | ২৭ আগস্ট, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।