ফরিদপুরের সালথায় দাঙ্গা ও সংঘাত বন্ধের আহ্বানে জাহিদ মাতুব্বরের সংবাদ সম্মেলন
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বালিয়া ও গট্টি এলাকায় দীর্ঘদিনের দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও সংঘাত বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় ব্যক্তিত্ব জাহিদ মাতুব্বর। আজ সোমবার (২৫ মে) বিকাল ৫টায় গট্টি এলাকায় এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাহিদ মাতুব্বর বলেন, "আমি দীর্ঘদিন ধরে মরহুম কেএম ওবায়দুর রহমানের আদর্শের রাজনীতি করে আসছি। ২০০১ সালে আমি তার নির্বাচনে সক্রিয় ছিলাম। এরপর ২০০৭ সালে আমি ইউরোপে চলে যাই এবং ২০১৮ সালে দেশে ফিরে ফরিদপুরে ব্যবসা শুরু করি। আমি কোনোদিন আওয়ামী লীগের কোনো পদে ছিলাম না, বরং একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছি। অথচ আমার প্রতিপক্ষ আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করতে ‘যুবলীগ’ তকমা দিয়ে একাধিক মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছে।"
তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, "আমি ত্রয়োদশ (আসন্ন) জাতীয় নির্বাচনে শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু আপার পক্ষে কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং সবসময় তার নির্দেশ মেনে চলি। পৈতৃক সূত্রেই এলাকার মানুষ আমাকে একটি গ্রাম্য দলের প্রধান হিসেবে মান্য করে, কিন্তু আমি কখনোই বিশৃঙ্খলা সমর্থন করি না।"
সম্প্রতি গট্টি এলাকায় আনোয়ার হোসেন ও রাজিব মাতুব্বরের ওপর হামলার ঘটনায় তাকে আসামী করার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জাহিদ মাতুব্বর বলেন, "ঘটনার দিন আমি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম। চারদিন হাসপাতালে থেকে আমি ফরিদপুর চলে যাই। অথচ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে এই মামলায় আসামী করা হয়েছে। আমি আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও হয়রানিমূলক মামলা থেকে মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।"
এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, "আমি এলাকায় কোনো কাইজ্জা-মারামারি বা অশান্তি চাই না। যারা আমাকে ভালোবাসেন, তাদের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ—আপনারা আর কোনো সংঘাতে জড়াবেন না। আমরা সবাই মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করতে চাই।"
শামা ওবায়েদ ইসলামের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "শামা ওবায়েদ আপা এলাকায় শান্তি চান। আমরা তার নির্দেশনা অনুযায়ী চলবো এবং আগামী দিনেও তার হাতকে শক্তিশালী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবো, ইনশাআল্লাহ।"
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ ছাড়াও বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন।
What's Your Reaction?
জাকির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টারঃ