৩ বার পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন তৌহিদ হোসেন
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, দায়িত্ব পালনকালে নিজ মন্ত্রণালয়ে অন্য উপদেষ্টাদের অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ এবং প্রভাবের কারণে তিনি তিন দফায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকারে তৌহিদ হোসেন দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো সাত সদস্যের একটি প্রভাবশালী ‘কিচেন ক্যাবিনেট’-এর মাধ্যমে। প্রতি মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই ক্যাবিনেটের নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হতো। তিনি বলেন, “সিদ্ধান্ত গুটিকয়েক মানুষ নিতেন—এমন কথা শোনা যেত। পরে জানতে পারি একটি নির্দিষ্ট গ্রুপ প্রতি মঙ্গলবার নিয়মিত বসে সব চূড়ান্ত করত। কোনো এক উপলক্ষে আমাকেও সেই কিচেন ক্যাবিনেটের বৈঠকে যোগ দিতে হয়েছিল।”
সাবেক এই পররাষ্ট্র উপদেষ্টা অভিযোগ করেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনেক বিষয়ে তিনি অন্ধকারে থাকতেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বহুল আলোচিত বাণিজ্য চুক্তির কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে সম্পাদিত এই চুক্তির বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিন্দুমাত্র অবগত ছিল না। পুরো বিষয়টি বাণিজ্য উপদেষ্টা ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সরাসরি তদারকি করেছিলেন।
কাজের এমন প্রতিকূল পরিবেশের কারণে তিনি তিনবার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন উল্লেখ করে তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমি তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু প্রতিবারই আমাকে বলা হয়েছে যে, এই মুহূর্তে আমার সরে যাওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য একটি বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। সরকারের ভাবমূর্তির কথা ভেবে শেষ পর্যন্ত আমার পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়নি।”
উল্লেখ্য যে, এম তৌহিদ হোসেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তার এই বক্তব্যে তৎকালীন সরকারের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার কিছু অজানা দিক সামনে উঠে এসেছে।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ